• ঢাকা
  • শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫১ পিএম


ইরানের ক্ষেপণা/স্ত্র হাম/লা থেকে ইস রায়েলকে পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়ার মতো নৌ-সক্ষমতা নেই যুক্তরাষ্ট্রের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১ আগস্ট ২০২৬ ১০:৩৯ পিএম

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে ইসরায়েলকে কার্যকরভাবে সুরক্ষা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নেই। একই সঙ্গে ন্যাটোভুক্ত অঞ্চল এবং নিজস্ব ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক যুদ্ধজাহাজও মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে নেই।

এ কারণে একই সময়ে উভয় ধরনের প্রতিরক্ষা অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ভূখণ্ডের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হতে পারে বলে প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনকে লিখিতভাবে সতর্ক করেছেন দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কমান্ডার।

শনিবার (১ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ডের (ইইউকম) প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেউইচ চলতি সপ্তাহে পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে একটি গোপনীয় চিঠি পাঠিয়েছেন।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জেনারেল গ্রিনকেউইচ ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে জরুরি ভিত্তিতে আরও একটি নৌ-ডেস্ট্রয়ার মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, অতিরিক্ত রণতরি না পেলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষার আগে মার্কিন ভূখণ্ডের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হতে পারে।

ওয়াশিংটন পোস্ট এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, ঊর্ধ্বতন কমান্ডাররা যখন মনে করেন ওয়াশিংটনের দৃষ্টি অভিযানগত ঝুঁকির দিকে আনা প্রয়োজন, তখন এ ধরনের সতর্কবার্তা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। সীমিত সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ, জনবল ও অস্ত্রের জন্য বিভিন্ন সামরিক কমান্ডের মধ্যে প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবেও এমন নোটিসকে দেখা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পাঁচ মাস পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি টানা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর যে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে, এই সতর্কবার্তায় তারই প্রতিফলন ঘটেছে।

দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে মার্কিন নৌবাহিনীর উন্নত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সামরিক অভিযানে নিয়োজিত রণতরিগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ও রক্ষণাবেক্ষণেও বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ড মূলত ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন থাকা ডেস্ট্রয়ারগুলোর মাধ্যমে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সহায়তা দিয়ে আসছে। উন্নত রাডার প্রযুক্তিসম্পন্ন এসব যুদ্ধজাহাজ ইরান ও ইয়েমেনের হুথিদের ছোড়া শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করছে। তবে একই সময়ে ইউকমকে ন্যাটোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা এবং রাশিয়ার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে মার্কিন স্বার্থ রক্ষার দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে।

স্পেনের রোটা নৌঘাঁটিতে সাধারণত পাঁচটি ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন থাকার কথা থাকলেও অতিরিক্ত চাপের কারণে সেগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে ইউএসএস পল ইগনাশিয়াস ও ইউএসএস রুজভেল্ট ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছে, আর বাকি তিনটি ডেস্ট্রয়ার রয়েছে স্পেনের রোটা ঘাঁটিতে।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য ও আরব সাগরেও যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের নৌ-সমাবেশ ঘটিয়েছে। তেহরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপের নির্দেশ দেন। এর ফলে মার্কিন নৌবাহিনীকে একাধিক ফ্রন্টে তাদের যুদ্ধজাহাজ ছড়িয়ে দিতে হয়েছে।

বর্তমানে আরব সাগরে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের সঙ্গে ১১টি ডেস্ট্রয়ারসহ অন্তত ১৫টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এগুলো ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে মার্কিন বাণিজ্য সুরক্ষা ও অবরোধ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে।

এ ছাড়া লোহিত সাগরে ইউএসএস গঞ্জালেজ নামে আরও একটি ডেস্ট্রয়ার ইয়েমেনের হুথি হামলা প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করছে।

পেন্টাগনের আগের মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে, গত পাঁচ মাসের যুদ্ধে ইসরায়েল নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার থাড (টিএইচএএডি) এবং নৌ-ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থার ওপর অনেক বেশি নির্ভর করেছে।

প্রতিরক্ষাবিষয়ক থিঙ্কট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর মিসাইল ডিফেন্স প্রজেক্টের পরিচালক টম কারাকো বলেন, “দীর্ঘ যুদ্ধ সামরিক প্রস্তুতি ও গোলাবারুদের মজুতের ওপর চরম আঘাত এনেছে। এখন প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত কৌশল কী?”

এদিকে, আসন্ন নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতি অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। পেট্রোল, খাদ্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ নাগরিক এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন। ফলে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে নিজস্ব অস্ত্রভাণ্ডার ও জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলার এই দ্বিমুখী সংকট মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

/এসএন