অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতের কোথাও স্থান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের কোনো ধরনের আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
শনিবার (১ আগস্ট) পশ্চিমবঙ্গে ১৬তম ডিজিটাল জনগণনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দেখভালের দায়িত্ব ভারতের নয়।
ভারতে ১৬তম জনগণনা কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিনেই সীমান্ত নিরাপত্তা ও রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি বলেন, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এই রাজ্যে বা দেশে থাকবে না। নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে সতর্কতার সঙ্গে ফেরত পাঠানো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও পাঠানো হবে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দেখভাল করার দায়িত্ব ভারতের নয়।’
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকার বাইরে গিয়ে কোনো আলাদা পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
অনুপ্রবেশকারী ও শরণার্থীদের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বা অন্য প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। যথাযথ আইনি কাঠামোর আওতায় তারা শরণার্থী হিসেবে গণ্য হবেন।
তিনি বলেন, ‘ভারত সরকারের ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়ম পরিষ্কার। যেসব শরণার্থী ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-এর মধ্যে ধর্ম বা প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে ভারতে এসেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা যাবে না এবং পুলিশও তাদের কোনো ধরনের হয়রানি করতে পারবে না।’
জনগণনার সময় প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেন শুভেন্দু অধিকারী। অতীতের একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগের সরকারের আমলে বীরভূমে একটি ভুলের কারণে একজন ভারতীয় নাগরিক সমস্যায় পড়েছিলেন, যদিও পরে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।
তার ভাষায়, ‘আমাদের সরকার নিশ্চিত করবে, এই প্রক্রিয়ায় একজন প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকও যেন বিন্দুমাত্র সমস্যার মুখে না পড়েন।’
১ আগস্ট থেকে ভারতের অন্যান্য রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও ১৬তম জনগণনা শুরু হয়েছে। এবারই প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই জনগণনা পরিচালিত হচ্ছে।
নাগরিকদের জন্য এতে ‘সেলফ এনুমারেশন’ বা স্ব-গণনার সুযোগ রাখা হয়েছে। পুরো কার্যক্রম দুই ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে ১ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নাগরিকরা অনলাইনের মাধ্যমে সরকারি পোর্টালে নিজেদের পরিবারের তথ্য জমা দিতে পারবেন। দ্বিতীয় ধাপে সরকারি কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জমা দেওয়া তথ্য যাচাই ও মিলিয়ে দেখবেন।
/এসএন