আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ:
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে একের পর এক সামরিক উত্তেজনার খবর সামনে এসেছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের মিনাব নৌঘাঁটির আশপাশে সামরিক তৎপরতা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ নেয় বলে খবর ছড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবিও এসেছে যে, ইরান একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং একটি মার্কিন রিফুয়েলিং বিমানকে আকাশ থেকে নামতে বাধ্য করেছে। যদিও এসব দাবির স্বাধীন বা আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইরান প্রকাশ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কথা স্বীকার করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনা চলছে।
পরিস্থিতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সৌদি আরব ও কুয়েত প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহার না করার অবস্থান জানালেও পরে সেই অবস্থান শিথিল করেছে বলে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রে দাবি উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রয়েছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক যুদ্ধের ভয়ও তাদের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। ফলে তারা ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নিচ্ছে।
এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক এক কর্মকর্তার বক্তব্যও আলোচনায় এসেছে। তিনি মন্তব্য করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে অস্বীকার করা কঠিন।
পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে আগামী দিনগুলোতে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
/এএসএফ