ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মাথায় উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যার ঘটনায় মুখ খুলেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এই ঘটনাকে ‘ঠাণ্ডা মাথার খুন’ বলে অভিহিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তার দাবি, হামলাকারীরা আক্রমণের আগে দীর্ঘ সময় ধরে এলাকাটি পর্যবেক্ষণ বা ‘রেকি’ করেছিল।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৬ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে। মধ্যমগ্রামের দোলতলা এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা একদল দুষ্কৃতী চন্দ্রনাথ রথের গাড়ির গতিরোধ করে। পরে খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে তারা পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শুভেন্দু জানান, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত তাকে এই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, হামলার ধরন দেখে বোঝা যাচ্ছে এটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং ঘাতকরা আগে থেকেই সবকিছু সাজিয়ে রেখেছিল। তবে তদন্ত চলমান থাকায় তিনি সরাসরি কোনো সংগঠনের নাম উল্লেখ করেননি।
দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বিজেপি আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চায় না। তিনি চান পুলিশ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করুক।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি কর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চলছে। শুভেন্দুর দাবি, তিনি যখন হাসপাতালে সতীর্থের খোঁজ নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় বসিরহাটে এক বিজেপি কর্মীকে গুলি করা হয়। এছাড়া বরাহনগর এলাকায় আরেক কর্মীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনাও ঘটেছে।
রাজ্যের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির জাতীয় নেতা নীতিন নবীন-এর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পুরো বিষয়টি তাদের জানিয়েছেন।
/এসএন