• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২০ পিএম


মমতার পদত্যাগ না করলে কী হবে পশ্চিমবঙ্গে?

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৭ মে ২০২৬ ১:১০ পিএম

সদ্য সমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় ধরনের পরাজয়ের পরও একে ‘পরাজয়’ হিসেবে মানতে নারাজ দলনেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে লোকভবনে যাবেন না।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় সাংবিধানিকভাবে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এরপর রাজ্যের প্রশাসনিক পরিস্থিতি কী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, বিজেপি নেতৃত্ব ইতোমধ্যে জানিয়েছে, আগামী ৯ মে শনিবার রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে।

আইন বিশেষজ্ঞ ও প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি নিজের অবস্থান থেকে সরে না আসেন, তাহলে ৮ মে শুক্রবার—অর্থাৎ নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগের ২৪ ঘণ্টা পশ্চিমবঙ্গে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের দাবি, ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন ঘটনার নজির আগে দেখা যায়নি।

ভারতের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর শাসকদল নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারলে মুখ্যমন্ত্রী রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করেন। এটিকে সংসদীয় রাজনীতিতে সাংবিধানিক সৌজন্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

পরে রাজ্যপাল নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব পালন করার অনুরোধ জানান। এই সময় বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ও সরকার শুধুমাত্র রুটিন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করেন, কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষেত্রেও একই প্রথা অনুসরণ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তামিলনাড়ুতেও ডিএমকে সরকারের মেয়াদ বুধবার শেষ হয়েছে। যদিও সেখানে নতুন সরকার এখনও শপথ নেয়নি, তবুও মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন ও তাঁর সরকার ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। পরে রাজ্যপাল তাঁকেই কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাজ্যপালের সদিচ্ছার ভিত্তিতেই একটি রাজ্য সরকার পরিচালিত হয়। আইন অনুসারে ৭ মে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।

ভারতীয় সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এক মুহূর্তের জন্যও সেই সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারে না। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি পদত্যাগ না করেন, তাহলে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকেই পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির সম্ভাবনার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল বুধবার ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচিত বিধায়কদের গেজেট নোটিফিকেশন রাজ্যপালের হাতে তুলে দিয়েছেন।

এই তালিকার ভিত্তিতে রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন এবং তাদের নেতা বা সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রীর নাম জানতে চাইবেন। পাশাপাশি তারা কবে শপথ নিতে চায়, সেটিও জানতে চাওয়া হবে। বিজেপি ইতোমধ্যে ৯ মে শপথ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও ভারতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হরিশ সালভে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ৭ মে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র চাইতে পারেন।

তিনি বলেন, বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মমতা আর সাংবিধানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। তবে রাজ্যপালের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি পদত্যাগ করলে পরবর্তী সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বলা হতে পারে।

অন্যদিকে, যদি তিনি পদত্যাগ না করেন, তাহলে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হতে পারে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছেন, তিনি এই ফলাফলকে পরাজয় হিসেবে মানছেন না। তাই পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না।

/এইচটি