ফ্রান্সে শিক্ষাব্যবস্থার সংকটের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছে শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন এবং শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের ঘাটতির অভিযোগ তুলে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ধীরে ধীরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) দেশটির ৪০০ থেকে ৫০০টি উচ্চবিদ্যালয়ে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে পাঠদান বন্ধ ছিল।
আন্দোলনটি প্যারিসের উপকণ্ঠের ক্রেতেই এলাকার লিসে সাঁ-এক্সুপেরি স্কুলকে কেন্দ্র করে শুরু হয়। সেখানে শিক্ষকরা ১৭ সেপ্টেম্বর জনবল ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতির প্রতিবাদে কর্মবিরতিতে গেলে শিক্ষার্থীরাও তাদের সঙ্গে সংহতি জানায়। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে আন্দোলনটি প্যারিসের বাইরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে শূন্য পদে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো, স্কুল ভবন সংস্কার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় জনবল ও অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট, অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এবং জরাজীর্ণ অবকাঠামোর অভিযোগ তুলে আসছে।
প্যারিসের উপকণ্ঠ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন ইতোমধ্যে মার্সেই, লিয়ঁ, লিল, নঁত, মন্টপেলিয়ে, বোর্দো, তুলুজ ও রেনসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো আরও বড় পরিসরে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শিক্ষা ও শ্রমিক সংগঠনও আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
আন্দোলনের মধ্যে কিছু এলাকায় সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বা ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে শত শত স্কুলে পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলন শুরুর পর ৫ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। রয়টার্সও জানিয়েছে, বিক্ষোভে আটক হওয়া বেশির ভাগই কিশোর-কিশোরী।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ঁ লেকোরনু শিক্ষকদের অনুপস্থিতির কারণে ক্লাস বন্ধ হয়ে যাওয়া, স্কুল ভবনের অবস্থা, শিক্ষার্থীদের জীবনযাপন, শিক্ষা ও ক্যারিয়ার নির্দেশনা এবং শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়াসহ পাঁচটি বিষয়ে পৃথক উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকার অক্টোবরের শেষ নাগাদ এসব বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত জানানোর কথা জানিয়েছে।
লেকোরনু আরও নির্দেশ দিয়েছেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ও ভবনের অবস্থা পাঠদানের উপযোগী, সেখানে ৫ অক্টোবর থেকে ধীরে ধীরে ক্লাস চালু করতে হবে। পরীক্ষার্থী শ্রেণিগুলোকে এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এদিকে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে শিক্ষাব্যবস্থায় আরও বিনিয়োগ, শিক্ষক সংকটের সমাধান এবং স্কুলগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানানো হচ্ছে। শিক্ষা খাতের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
/এএসএফ