• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম


প্রেমিকার টানে সর্বস্ব বিক্রি করে ২১০০ কিলোমিটার পাড়ি, গিয়ে জানলেন তিনি এআই

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ১:০২ পিএম

অনলাইনে পরিচয় হওয়া প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে নিজের সব জিনিসপত্র বিক্রি করে ২ হাজার ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিলেন ব্রাজিলের ৪৯ বছর বয়সী এক রাজমিস্ত্রি। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে জানতে পারেন, যে নারীকে ঘিরে তিনি নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছিলেন, তাঁর ছবি ও ভিডিও আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি।

অনলাইনে প্রেম খুঁজে পাওয়ার অভিজ্ঞতা যেমন রোমাঞ্চকর হতে পারে, তেমনি তা কখনো কখনো বাস্তব জীবনে বড় ধরনের হতাশার কারণও হয়ে দাঁড়ায়। ব্রাজিলের রাজমিস্ত্রি এদিমার রোচা মার্টিনসও ভেবেছিলেন, অনলাইনে তিনি হয়তো নিজের জীবনের কাঙ্ক্ষিত মানুষটিকে খুঁজে পেয়েছেন।

মা মারা যাওয়ার পর যে শহরে মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন, সেখানে আর সুখী বোধ করছিলেন না মার্টিনস। তিনি চেয়েছিলেন একজন সঙ্গী, নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ এবং এমন একজন মানুষ, যার সঙ্গে নিজের জীবনের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিতে পারবেন।

একপর্যায়ে তাঁর মনে হয়, অনলাইনে সেই মানুষটির সন্ধান পেয়েছেন। এরপর নিজের জিনিসপত্র বিক্রি করে বাসে চড়ে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে ২ হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দেন তিনি। ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ভ্রমণের পর ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেলো ওরিজন্তিতে পৌঁছান মার্টিনস। জেসিকা নামের ওই নারীর সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার প্রস্তুতি নিয়েই সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাগুলোর একটির মুখোমুখি হতে হয়। যে নারীকে তিনি নিজের স্বপ্নের মানুষ বলে ভাবছিলেন, বাস্তবে তাঁর কোনো অস্তিত্বই ছিল না।

মার্টিনস ব্রাজিলের মারানহাও রাজ্যের ইম্পেরাত্রিজ শহর থেকে বেলো ওরিজন্তিতে গিয়েছিলেন জেসিকার সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু সেখানে পৌঁছে স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে ওই নারীকে খুঁজতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, জেসিকার ছবি ও ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।

মার্টিনস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জেসিকা অলিভেইরা’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করতেন। ওই নারী ‘জেসিকা ফাজেন্দেইরা’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে নিজেকে একজন বিধবা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হতো। বলা হতো, মিনাস জেরাইস রাজ্যে তাঁর একটি খামার রয়েছে এবং জীবন ভাগ করে নেওয়ার জন্য তিনি একজন পুরুষ সঙ্গী খুঁজছেন।

জেসিকার বার্তাগুলো ছিল আকর্ষণীয়। তিনি একজন জীবনসঙ্গী পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা বলতেন এবং নিজের খামারে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপনের প্রতিশ্রুতি দিতেন। একটি ভিডিওতে তিনি এমন প্রতিশ্রুতিও দেন যে, যে পুরুষ তাঁর সঙ্গে থাকতে আসবেন, তাঁকে তিনি সহায়তা করবেন।

সিএনএন ব্রাজিলের প্রতিবেদন করা একটি ভিডিওতে ওই নারীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি চাই তুমি আমার খামারে এসো এবং জীবনে আর কখনও কাজ না করো।’

মার্টিনসের ঘটনা অবশ্য বেলো ওরিজন্তিতে এ ধরনের প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে গত জুনে ৭২ বছর বয়সী ওয়াল্টার দা সিলভা রোরাইমা থেকে বেলো ওরিজন্তিতে গিয়েছিলেন। টিকটকে দেখা এক নারী তাঁকে জীবনসঙ্গী হিসেবে চেয়েছেন এবং নিজের খামারে কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—এমন বিশ্বাস থেকেই তিনি সেখানে যাত্রা করেন।

এরপর আগস্টে ৭১ বছর বয়সী আলবার্তো দা কস্তা মানাউস থেকে বেলো ওরিজন্তিতে যান। এ যাত্রায় তাঁর প্রায় ৩ হাজার ব্রাজিলীয় রেয়াল খরচ হয়েছিল বলে জানা গেছে। তিনিও অনলাইনে প্রকাশিত একই ধরনের ভিডিওতে দেখা এক নারীর সঙ্গে সাক্ষাতের আশা করেছিলেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন, ওই নারীও বাস্তব কোনো রোমান্টিক সঙ্গী নন।

ব্রাজিলের সম্প্রচারমাধ্যম রাদিও ইতাতিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বেলো ওরিজন্তিতে এ ধরনের তৃতীয় ঘটনা হিসেবে মার্টিনসের অভিজ্ঞতার খবর সামনে এসেছে।

/এসএন