ইরানে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত তরুণ বিজ্ঞানী মাহসা তাহেরি, প্রাণ গেল পরিবারের সদস্যদেরও
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রকৌশল খাতে কাজ করা তরুণ বিজ্ঞানী ড. মাহসা তাহেরি নিহত হয়েছেন। ‘মাদার তেহরান’ সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের আরাক শহরে নিজ বাড়িতে তিনি নিহত হন। ওই হামলায় তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরাও প্রাণ হারিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯৯৩ সালে ইরানের আরাক শহরে জন্মগ্রহণ করেন মাহসা তাহেরি। তিনি আরাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তারবিয়াত মোদারেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন ও কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো তাঁকে ইরানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞানী হিসেবে বর্ণনা করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রকৌশল-সংশ্লিষ্ট গবেষণায় তাঁর কাজের কারণে তিনি পরিচিতি অর্জন করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বিদেশে কাজের সুযোগ পেয়েও দেশে থাকার সিদ্ধান্ত
মাহসা তাহেরির যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও নরওয়েতে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিদেশে স্থায়ী হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি নিজ দেশ ইরানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
গবেষণাকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি মাতৃভূমিতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে দেশের গবেষণা খাতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের সঙ্গে সম্পর্কিত করে তুলে ধরা হয়েছে।
ক্ষেত্রবিশেষে ব্যবহারের উপযোগী ধাতব উপাদান তৈরির দাবি
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মাহসা তাহেরি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় ব্যবহারের জন্য একটি বিশেষ ধাতব উপাদান তৈরি করেছিলেন। উপাদানটি অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে সক্ষম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া উপাদানটি রাডারের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও অনুসরণ করার সম্ভাবনা কমাতে সহায়তা করে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে উপাদানটির বৈশিষ্ট্য, গবেষণার ফলাফল কিংবা এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
নিজ বাড়িতে হামলায় নিহত হওয়ার দাবি
‘মাদার তেহরান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের আরাক শহরে মাহসা তাহেরির সাধারণ একটি আবাসিক বাড়িতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় মাহসা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিহত হন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে হামলার সুনির্দিষ্ট সময়, পরিবারের নিহত সদস্যদের সংখ্যা ও পরিচয় এবং ঘটনার বিষয়ে স্বাধীন সূত্রের নিশ্চিতকরণ সম্পর্কে সরবরাহ করা তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
/এএসএফ