• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম


‘‘নোবেল শান্তি পুরস্কার আমারই প্রাপ্য’’- ট্রাম্প

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৮:১২ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার তাঁরই পাওয়া উচিত। তবে পুরস্কারটি জিততে পারবেন কি না, তা নিয়ে নিজেই সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। অথচ ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত চলমান এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও এখনো পূরণ হয়নি। এসব পরিস্থিতির মধ্যেই আবারও বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের প্রতি নিজের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। 

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশ ও ভূখণ্ড নিয়ে বিতর্কিত পরিকল্পনা ও পদক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে। কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার প্রস্তাব, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি এবং গাজাকে নিয়ে রিভেরা গড়ে তোলার পরিকল্পনা তাঁর আলোচিত উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া ভেনেজুয়েলা ও কিউবার বিষয়ে তাঁর প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ঘোষণা করার কথা রয়েছে। এর আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, নোবেল কমিটি কী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, তা তিনি জানেন না। কমিটির সুনাম রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হয়তো আমার মতো মানুষকে তারা পুরস্কার না-ও দিতে পারে।’ 

গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য বলে বারবার দাবি করে আসছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এখন সেই সময় এসেছে।’ একই সঙ্গে গতবার পরোক্ষভাবে পুরস্কার পেয়ে সম্মানিত বোধ করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো গত জানুয়ারিতে তাঁর পদক ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। ভেনেজুয়েলায় নিজের রাজনৈতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন চাওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এ পদক্ষেপ নেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই পুরস্কারজয়ী বলেছিলেন, ইতিহাসে তাঁর চেয়ে বেশি কেউ নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য নন। ট্রাম্প সম্ভবত এ ঘটনাকেই পরোক্ষভাবে পুরস্কার পাওয়ার অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। 

গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর আটটি সংঘাতে হস্তক্ষেপ করেছেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার তাঁর প্রাপ্য। কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা তাঁকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন। তবে এসব মনোনয়নের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

ট্রাম্প যেসব সংঘাতের সমাধান করেছেন বলে দাবি করেন, সেগুলোর কয়েকটিতে তাঁর কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আপত্তি রয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি অঞ্চলে নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তের সংঘাত।

ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়টিও এখনো অমীমাংসিত। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রথম দিনেই যুদ্ধটি শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু এখনো সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। 

এদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানির দামেও। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তবে ৮ অক্টোবর ট্রাম্প জানিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। তিনি ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। 

এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় রয়েছেন পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার ফ্রান্সেসকা আলবানিজ। ফলে ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার দাবি ও তাঁর কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই শুক্রবার বিজয়ীর নাম ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ব।

/এএসএফ