• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম


মাধ্যমিকে ভর্তির নতুন নীতিমালা, কোটায় ১৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭:২৮ পিএম

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে কোটাধারীদের জন্য ১৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়া ভর্তি নীতিমালায়। শিগগিরই নীতিমালাটি চূড়ান্ত করে জারি করবে সরকার। এর ভিত্তিতেই ২০২৭ সালে সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে।

ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত করতে ইতোমধ্যে কয়েক দফা বৈঠক করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। খসড়া নীতিমালা যাচাই-বাছাই শেষে প্রস্তাবনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের মাধ্যমে চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করা হবে।

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এই কোটায় আসন পূরণ না হলে মেধাতালিকা থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ০.৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করলেই তারা এ সুবিধা পাবেন। একই শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্যও আলাদাভাবে ০.৫ শতাংশ আসন রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

যমজ ভাইবোনদের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখার প্রস্তাব রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে আবেদনকারী শিক্ষার্থীর যমজ ভাই বা বোন আগে থেকে অধ্যয়নরত থাকলে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে। নতুন করে আবেদন করা যমজ ভাইবোনেরাও এ কোটার আওতায় থাকবে।

এ ছাড়া সহোদরদের জন্য ৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। আবেদনকারীর সহোদর আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত থাকলে অথবা নতুন করে আবেদন করলেও এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্যও ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে বলে খসড়া নীতিমালায় প্রস্তাব করা হয়েছে।

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শুধু ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে আলাদা একটি সুযোগ রাখা হয়েছে। মোট আসনের ১০ শতাংশ স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এই ১৩ শতাংশের বাইরে আরও ১ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে এই কোটা রাখা হবে। এর আওতায় শিশুরা নিকটস্থ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।

ঢাকা মহানগরীর সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে স্কুলসংলগ্ন এলাকার বা ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। একই ক্যাচমেন্ট এলাকার আওতায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে।

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে লটারির মাধ্যমে। আর ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি নেওয়া হবে পরীক্ষার মাধ্যমে। এ পরীক্ষায় বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বর থাকবে। অর্থাৎ মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

সামগ্রিক বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তির জন্য নীতিমালা খসড়া আকারে রয়েছে। এটি চূড়ান্ত হলে বিস্তারিত বলা যাবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাধ্যমিক শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, প্রতি বছরই শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে কিছু কোটা রাখা হয়। গত কয়েক বছরে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। এরপরও এই কোটা রাখা হয়েছে। বিভিন্ন বাধ্যবাধকতার কারণে নীতিমালায় এটি রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

/এএসএফ