পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দঘন পরিবেশে শুক্রবার (২১ আগস্ট) নিজের ১১৭তম জন্মদিন উদযাপন করেছেন বিশ্বের প্রবীণতম জীবিত ব্যক্তি ইথেল ক্যাটারহাম। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের সারের লাইটওয়াটারের হলমার্ক লেকভিউ কেয়ার হোমে বসবাস করছেন তিনি। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে গত বছরের এপ্রিলে ১১৬ বছর বয়সে ব্রাজিলীয় নান সিস্টার ইনা কানাবারো লুকাসের মৃত্যুর পর বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত মানুষের স্বীকৃতি পান ইথেল ক্যাটারহাম।
ইথেল এমন এক সময়ে জন্মগ্রহণ করেন, যখন টাইটানিক জাহাজডুবির আরও তিন বছর বাকি ছিল এবং রুশ বিপ্লবেরও আট বছর বাকি ছিল। দীর্ঘ জীবনে তিনি দুটি বিশ্বযুদ্ধের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছেন।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে ১১০ বছর বয়সে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন ইথেল ক্যাটারহাম। তবে সফলভাবে সেই অসুস্থতা কাটিয়ে ওঠেন তিনি এবং প্রবীণ বয়সে কোভিড জয় করে বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের একজন হিসেবে পরিচিত হন।
যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পশায়ারের শিপটন বেলিনজার গ্রামে আট ভাইবোনের মধ্যে সপ্তম সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন ইথেল। পরে উইল্টশায়ারের টিডওয়ার্থে বেড়ে ওঠেন তিনি।
রাজা সপ্তম এডওয়ার্ডের শাসনামলের জীবিত শেষ নাগরিক ইথেল মাত্র ১৯ বছর বয়সে ১৯২৭ সালে ভারতে পাড়ি জমান। সেখানে একটি সামরিক পরিবারের গৃহকর্মী ও শিশু যত্নকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি।
পরবর্তীতে ১৯৩১ সালে ব্রিটেনে একটি নৈশভোজে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল নরম্যানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুই কন্যাসন্তান ছিল। তবে দুজনেই মায়ের আগে মারা যান। ১৯৭৬ সালে ইথেলের স্বামী নরম্যানও মারা যান।
ইথেলের বোন গ্ল্যাডিসও দীর্ঘ জীবন পেয়েছিলেন। তিনি ১০৪ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন এবং শতবর্ষী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
এদিকে ৯৭ বছর বয়স পর্যন্ত নিজেই গাড়ি চালিয়েছেন ইথেল ক্যাটারহাম। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তার ১১৬তম জন্মদিনের পর তাকে দেখতে গিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস।
রাজার সঙ্গে সেই সাক্ষাতের সময় ১৯৬৯ সালে ওয়েলসের যুবরাজ হিসেবে চার্লসের রাজ্যাভিষেকের স্মৃতি তুলে ধরেন ইথেল। সে সময় রসিকতা করে তিনি বলেছিলেন, ‘তখন সব মেয়েরাই আপনার প্রেমে পড়েছিল এবং আপনাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল।’
তবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তির রেকর্ড এখনো ফরাসি নারী জান ক্যালমতের দখলে। তিনি ১৯৯৭ সালে ১২২ বছর ১৬৪ দিন বয়সে মারা যান।
/এসএন