সৌদি আরবের নতুন পাঠ্যপুস্তকে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল-সংক্রান্ত বেশ কিছু বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেশটির স্কুলের কয়েকটি পাঠ্যবইয়ের মানচিত্র থেকে ‘প্যালেস্টাইন’ শব্দ বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলকে ‘জায়নবাদী শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করা কিছু ভাষাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পাঠ্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইমপ্যাক্ট-এসই। খবর নিউজ আরবের।
সংস্থাটির পর্যালোচনা অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ব্যবহৃত পাঠ্যবইয়ের মধ্যে একাদশ শ্রেণির আরবি ভাষার একটি বইয়ে উল্লেখ থাকা ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছাড়বে না’ বাক্যটি পরবর্তী সংস্করণ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সংস্করণে বাক্যটি থাকলেও ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রকাশিত সংস্করণে আর তা দেখা যাচ্ছে না। ইমপ্যাক্ট-এসইর মতে, জেরুজালেমের মতো রাজনৈতিক ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে সৌদি পাঠ্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে থাকা অবস্থানের ভাষায় এ পরিবর্তন তাৎপর্যপূর্ণ।
ইতিহাসের পাঠ্যবইয়েও ইসরায়েল প্রসঙ্গে ভাষাগত পরিবর্তন করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ সংস্করণে ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর সৌদি আরবের ভূমিকা নিয়ে আলোচনার সময় ইসরায়েলকে ‘জায়নবাদী শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৫-২৬ সংস্করণে সেই শব্দের পরিবর্তে ‘ইসরায়েলি দখলদারিত্ব’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়েছে।
এ ছাড়া কয়েকটি পাঠ্যপুস্তকের মানচিত্র থেকেও ফিলিস্তিনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইমপ্যাক্ট-এসই। কিছু মানচিত্রে ওই অঞ্চলের নাম উল্লেখ না করেই সেটি দেখানো হয়েছে।
ইসরায়েলভিত্তিক এই সংস্থাটি পাঠ্যবইয়ের এসব পরিবর্তনকে সৌদি পাঠ্যক্রমে ইসরায়েলের প্রতি ‘শত্রুতার মাত্রা কমানোর’ ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।
সৌদি আরবের পাঠ্যক্রমে এই পরিবর্তনের বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রচেষ্টা নিয়ে আবারও আলোচনা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আগে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ এগোলেও গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেই প্রক্রিয়া থেমে যায়।
তবে রিয়াদ এখনো বলে আসছে, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হলে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায় দেশটিতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাঠ্যবইয়ের এসব পরিবর্তনকে ওই বৃহত্তর সংস্কার প্রক্রিয়া এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
/এসএন