মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সবসময়ই ইরানের নিয়ন্ত্রণে ছিল, বর্তমানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ইরানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।
সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবে। তার এই মন্তব্যের জবাবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রতিক্রিয়া জানান।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালি ইরানের নির্দেশেই খোলা বা বন্ধ হবে।
কাজেম ঘরিবাবাদি আরও বলেন, ট্রাম্প বলেছেন, ইরান পরাজিত হলে তিনি হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন। তার ভাষায়, কোনো টুইট, এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার কিংবা প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে হরমুজ দখল করা সম্ভব নয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এখন পর্যন্ত যে বড় ধরনের কৌশলগত পরাজয়ের মুখে পড়েছে, অন্তত একবার সেই বাস্তবতা স্বীকার করার আহ্বান জানান।
এর আগে নিউইয়র্কে পুলিশ অ্যাকাডেমির এক সমাবেশে ট্রাম্প হাসতে হাসতে বলেছিলেন, ইরানকে পুরোপুরি পরাজিত করার পর তিনি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ঘোষণা করবেন। তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী একটি ‘দুষ্ট দেশকে’ থামাতে কিছুটা বেশি পেট্রোলের দাম দেওয়া অর্থবহ।
তবে পরে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, ট্রাম্প মূলত রসিকতা করেই ওই মন্তব্য করেছিলেন।
এর আগে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে দাবি করেছিলেন, হরমুজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং মার্কিন নৌঅবরোধ এমন একটি ‘ইস্পাতের প্রাচীর’ তৈরি করেছে, যা ইরান ভাঙতে পারবে না। ইরানের সামরিক বাহিনী অবশ্য এই দাবিকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বার্তায় ইরানের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমান্ড ‘খাতাম-আল আনবিয়া’র মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ইরানের সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি ছাড়া কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ কিংবা তেলবাহী ট্যাঙ্কার নিরাপদে এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে না বলেও জানান তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ব্যর্থতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র বারবার ভুল হিসাব করছে। হরমুজ প্রণালি নিয়েও এবার যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ভুল ধারণার মধ্যে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মধ্য দিয়ে ইরান-সংঘাত শুরু হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়।
/এসএন