• ঢাকা
  • রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম


১৫০ বছর পর লাইব্রেরিতে ফিরল ধার নেওয়া বই, জরিমানা প্রায় ১৯ লাখ টাকা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১ আগস্ট ২০২৬ ৪:৩২ পিএম

অস্ট্রেলিয়ার একটি পাবলিক লাইব্রেরিতে প্রায় দেড় শতাব্দী পর ধার নেওয়া একটি বই ফেরত এসেছে। এত দীর্ঘ সময় পর বইটি জমা দেওয়ায় লাইব্রেরির তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী হিসাব করলে বইটির বিলম্ব ফি দাঁড়ায় প্রায় ১৯ লাখ টাকা।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত অ্যান্টিকুইটিজ অব এথেন্স বইটি গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রতীরবর্তী শহর কিয়ামার পাবলিক লাইব্রেরিতে ফেরত দেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। তিনি জানান, বাড়ি সংস্কারের সময় একটি পুরোনো ফায়ারপ্লেসের ইটের গাঁথুনির ভেতরে রাখা একটি চায়ের বাক্সে বইটি খুঁজে পান।

কিয়ামা লাইব্রেরির ম্যানেজার মিশেল হাডসন বলেন, মুদ্রাস্ফীতির হিসাব ধরলে বইটি এত দেরিতে ফেরত দেওয়ার জরিমানা প্রায় ১৮ দশমিক ৭ লাখ রুপি হতে পারে। এই হিসাব করা হয়েছে বইটির মলাটের ভেতরে উল্লেখ থাকা ব্রিটিশ সাপ্তাহিক তিন পেন্স বিলম্ব ফি এবং ১৮৭২ সালে লাইব্রেরি চালুর সময়কার প্রচলিত নিয়ম অনুসারে।

তিনি জানান, এত পুরোনো কোনো বই আগে কখনও তাদের লাইব্রেরিতে ফেরত আসেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যান্য লাইব্রেরির অভিজ্ঞতায় সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছর পর বই ফেরত আসার ঘটনা দেখা গেলেও প্রায় ১৫০ বছর পর কোনো বই ফিরে আসা সত্যিই অত্যন্ত বিরল ঘটনা।

লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বইটি এখন তাদের গ্রন্থাগারের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হয়ে থাকবে। তবে বইটির প্রকৃত ধারগ্রহীতা কে ছিলেন, তা আর জানা সম্ভব নয়। কারণ ১৮৭০-এর দশকের ধার নেওয়ার রেজিস্টার বা দিনলিপি হারিয়ে গেছে। বইটির ভেতরেও এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যা থেকে সর্বশেষ পাঠকের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব।

এ প্রসঙ্গে মিশেল হাডসন বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের কাছে এমন কোনো নথি বা সূত্র নেই, যার মাধ্যমে বইটির শেষ ধারগ্রহীতাকে শনাক্ত করা যাবে।

সে সময় লাইব্রেরির নিয়ম ছিল, নতুন বই ধার নেওয়ার আগে আগের বই ফেরত দিতে হবে এবং সব বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। একটি পরিবার সর্বোচ্চ তিনটি বই ধার নিতে পারত। তবে শর্ত ছিল, পরিবারের অন্তত ছয়জন সদস্যের পড়তে জানা থাকতে হবে। এছাড়া নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের কাছে বই ইস্যু করা হতো না।

মজা করে হাডসন বলেন, “হয়তো এ কারণেই তারা বইটি আর ফেরত দেয়নি।”

দীর্ঘদিন চিমনির পাশে পড়ে থাকায় বইটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লাইব্রেরির ম্যানেজার জানান, গ্রন্থাগারটি চালু হওয়ার অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই বইটি হারিয়ে গিয়েছিল। এখন এটি লাইব্রেরির স্থানীয় ইতিহাস সংগ্রহের অংশ হিসেবে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হবে।

হাডসন আরও বলেন, “এবার আমরা বইটিকে আর বাইরে যেতে দেব না। এটি ফেরত আসার জন্য আর ১৫০ বছর অপেক্ষা করতে চাই না।”

/এসএন