• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৭ এএম


শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশ প্রধানের মৃত্যুদণ্ড

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১ আগস্ট ২০২৬ ৭:৩০ এএম

২০১৯ সালের পবিত্র ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কায় সংঘটিত ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে দেশটির সাবেক পুলিশ প্রধান পুজিথ জয়সুন্দরাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কলম্বোর একটি আদালত। শুক্রবার (৩১ জুলাই) তিন সদস্যের হাইকোর্ট বেঞ্চ আগাম গোয়েন্দা সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়াকে ‘অপরাধমূলক অবহেলা’ হিসেবে বিবেচনা করে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।তবে শ্রীলঙ্কায় ১৯৭৬ সাল থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকায় এ ধরনের সাজা সাধারণত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। পাশাপাশি এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার আইনি সুযোগও রয়েছে জয়সুন্দরার।একই ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব হেমাসিরি ফার্নান্দোর বিরুদ্ধেও পৃথক রায় ঘোষণার কথা রয়েছে।২০১৯ সালের ইস্টার সানডের সকালে শ্রীলঙ্কার তিনটি ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট গির্জা এবং তিনটি বিলাসবহুল পর্যটন হোটেলে একযোগে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। ভয়াবহ ওই হামলায় ৪২ জন বিদেশিসহ অন্তত ২৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।পরে গঠিত সংসদীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসে, হামলার আগে দেশীয় ও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একাধিক নির্দিষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছিল। কিন্তু শীর্ষ পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের চরম অবহেলার কারণে সেই সতর্কবার্তার ভিত্তিতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সদস্যরা সে সময়ই নিহত হলেও, ঘটনার নেপথ্যে জড়িত সহযোগীদের বিরুদ্ধে এখনও বিচারপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।এদিকে, শ্রীলঙ্কার ক্যাথলিক চার্চ দাবি করেছে, হামলার মূল পরিকল্পনাকারীরা এখনও চিহ্নিত হয়নি। চার্চের মতে, এখন পর্যন্ত যাদের হামলার মূল হোতা বা হামলাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, তারা প্রকৃত পরিকল্পনাকারী নন; বরং এই রক্তক্ষয়ী হামলার পেছনে আরও বড় ও গভীর কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।

/বিএসএস