ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ঘিরে দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিতর্কিত একটি বিলের চূড়ান্ত ভোটের আগে সংসদে প্রবেশ করতেই বিরোধী আইনপ্রণেতারা তাকে লক্ষ্য করে ‘শেম! শেম!’ (লজ্জা! লজ্জা!) এবং ‘লিভ!’ (পদত্যাগ করুন!) স্লোগান দিতে থাকেন। এতে মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো অধিবেশন।
দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, সোমবার (১৩ জুলাই) এই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল জোট সরকারের সমর্থিত একটি বিতর্কিত বিল।
বিল অনুযায়ী, আল্ট্রা-অর্থোডক্স বা হারেদি সম্প্রদায়ের যেসব ব্যক্তি বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ এড়িয়ে গেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কয়েক মাসের জন্য গ্রেফতার ও বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা হবে।
সরকারের দাবি, এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, এই বিল আইনের শাসন ও বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার নীতিকে দুর্বল করবে। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে হারেদি ভোটব্যাংকের সমর্থন নিশ্চিত করতেই সরকার তড়িঘড়ি করে বিলটি পাস করিয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
শুধু বিরোধী দল নয়, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এবং দেশটির প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারাও বিলটির সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে কার্যত সামরিক নিয়োগ থেকে ছাড় দেওয়া সেনাবাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।
এদিকে ভোটাভুটির আগেই সংসদ কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ফলে তিনি চূড়ান্ত ভোটে অংশ নেননি। তবে জোটের কয়েকজন সদস্য বিরোধিতা করলেও শেষ পর্যন্ত ৫৮–৫৪ ভোটে বিলটি পাস হয়।
এই বিল পাসের মধ্য দিয়ে হারেদি সম্প্রদায়ের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা নিয়ে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিক সুবিধা বয়ে আনবে নাকি নতুন সংকট তৈরি করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল
/এএসএফ