• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০২ পিএম


জন্মশহর মাশহাদে চিরনিদ্রায় শায়িত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৯ জুলাই ২০২৬ ১০:৩০ পিএম

আধুনিক ইরানের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনিকে তার জন্মশহর মাশহাদে দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দেশটির পবিত্রতম ধর্মীয় স্থানগুলোর একটি, অষ্টম শিয়া ইমাম ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে তাকে সমাহিত করা হয়।

তিন দশকেরও বেশি সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালনকালে তিনি দেশটির নীতি-নির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে পশ্চিমা শক্তিগুলোর সঙ্গে নানা ইস্যুতে দৃঢ় অবস্থানের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত হওয়ার পর তার স্মরণে ইরানজুড়ে সপ্তাহব্যাপী শোকানুষ্ঠান, জানাজা ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শেষ পর্যন্ত তার ইচ্ছা অনুযায়ী জন্মশহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হয়।

মাশহাদে অনুষ্ঠিত দাফন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের অতিথিরাও অংশ নেন। এর আগে ইরাকি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নাজাফে হজরত আলী (আ.)-এর পবিত্র মাজারে প্রায় ৩৮ লাখ মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে আরবাঈন রুট হয়ে তার মরদেহ কারবালায় নেওয়া হয়।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় ৩ জুলাই। ওই অনুষ্ঠানে বিশ্বের ৪৫টিরও বেশি দেশের রাজনৈতিক প্রতিনিধি এবং ৯০টিরও বেশি দেশের আলেম ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব অংশ নিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

৪ ও ৫ জুলাই তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ৬ জুলাই রাজধানী তেহরানে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ৭ জুলাই কোমের জামকারান মসজিদে এবং ৮ জুলাই ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

এদিকে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত মোজতবা খামেনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি। ইরানি সূত্রের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। তার মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগায় তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিরাপত্তাজনিত কারণেও তিনি এখনো প্রকাশ্যে আসেননি বলে জানা গেছে। যদিও তিনি লিখিত বার্তা দিয়েছেন, তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও প্রকাশ করা হয়নি।

/এএসএফ