মার্কিন হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরান ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শহর মাশহাদের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় রেলপথটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় এবং দুটি সেতু ধ্বংস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআরবি এ তথ্য জানায়। একই দিনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করে যে, হামলার ফলে রেলপথের দুটি সেতু ধ্বংস হয়েছে।
ইসলামিক রিপাবলিক রেলওয়ের এক মুখপাত্র আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম তাসনিমকে জানান, যত দ্রুত সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে। তেহরান ও মাশহাদের মধ্যে চলাচলকারী এই রেললাইন ইরানের সবচেয়ে ব্যস্ত রুটগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।
এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে নতুন করে হামলার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘গত রাতে আমরা ইরানে খুব কঠোরভাবে হামলা চালিয়েছি, খুবই কঠোরভাবে। সম্ভবত আজ রাতেও তাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।’
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহবাহী বিমান দেশটির পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শহর মাশহাদে পৌঁছেছে।
ইরানের গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, মাহান এয়ারের মরদেহবাহী বিমানটি অবতরণের পর বিমানবন্দরে চলাচল করছে। উল্লেখ্য, মাশহাদই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জন্মস্থান।
এর আগে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠানে লাখো মানুষ অংশ নেন।
খামেনির মৃত্যুর পর গত ছয় দিন ধরে ইরান ও ইরাকজুড়ে শোকানুষ্ঠান ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি চলছে। এর অংশ হিসেবে নাজাফ ও কারবালাসহ বিভিন্ন স্থানে জানাজা ও শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নাজাফ থেকে মাশহাদে কফিন স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে সেই কর্মসূচির শেষ ধাপ সম্পন্ন হচ্ছে।
খামেনির কার্যালয়ের প্রধান মোহাম্মদ মোহাম্মাদি গোলপায়েগানি জানিয়েছেন, জীবদ্দশায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তাকে যেন মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের নিকটে দাফন করা হয়।
/এএসএফ