• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৯ এএম


এই চুক্তি তেহরানের আগ্রহের কারণে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আগ্রহ ও ব্যাকুলতার ফলঃ মোজতবা খামেনি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৯ জুন ২০২৬ ৪:৩৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত নতুন সমঝোতা স্মারক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। তার দাবি, এই চুক্তি তেহরানের আগ্রহের কারণে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আগ্রহ, চাপ এবং প্রয়োজনের ফল হিসেবে বাস্তবায়িত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেন, “আপনাদের যেমনটা জানানো হয়েছে, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদ্বয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।”

খামেনি জানান, ইরানের কর্মকর্তারা কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে আন্তরিকভাবে কাজ করলেও বাস্তবে এই চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিল মার্কিন পক্ষ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই পরিস্থিতির চাপে পড়ে সমঝোতা বাস্তবায়নে বিভিন্ন কৌশলগত চাপ ও প্রভাব ব্যবহার করেছেন।

নতুন এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, নীতিগতভাবে এ বিষয়ে তার কিছু ব্যক্তিগত আপত্তি ও ভিন্নমত ছিল। তবে ইরানি জনগণের ন্যায্য অধিকার এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টের স্বার্থ রক্ষায় দেশের প্রেসিডেন্টের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রেখে তিনি শেষ পর্যন্ত সমঝোতার অনুমোদন দিয়েছেন।

একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের প্রতি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে খামেনি বলেন, নির্ধারিত চুক্তির সীমার বাইরে গিয়ে যদি যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত কোনো দাবি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে ইরান তা কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অন্যায্য কোনো দাবির কাছে তেহরান মাথা নত করবে না।

নিজেকে ইরানি জনগণের একজন বিনয়ী সেবক হিসেবে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ নেতা দেশের নাগরিকদের চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যারিসের ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন শেষে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আয়োজিত নৈশভোজে এই সমঝোতা স্মারক চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, এই সমঝোতা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির একটি নতুন পথ উন্মুক্ত করতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হওয়ার সুযোগও তৈরি করবে।

‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নামে পরিচিত এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো লেবাননসহ সব ধরনের সামরিক ফ্রন্টে অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে যুদ্ধবিগ্রহ এবং সামরিক অভিযান বন্ধ করা।

চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর আরোপিত দীর্ঘদিনের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া চূড়ান্ত চুক্তি কার্যকর হওয়ার এক মাসের মধ্যে ইরান সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক বাহিনী ও যুদ্ধজাহাজ সরিয়ে নেবে। এর বিনিময়ে ইরান আগামী ৬০ দিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে বলেও সমঝোতায় উল্লেখ করা হয়েছে।

/এসএন