• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৩ এএম


আর্থিক সংকটে অভিনয়, ‘নগ্ন দৃশ্যেও অভিনয় করতে হয়েছিল’

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩১ জুলাই ২০২৬ ১১:২২ পিএম

একসময় দক্ষিণ কোরিয়ার টেলিভিশনের পরিচিত মুখ ছিলেন অভিনেত্রী কিম সে–ইন। তবে হঠাৎ করেই অভিনয়জগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন তিনি। দীর্ঘদিন পর একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে ফিরে এসে অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার পেছনের কঠিন বাস্তবতার কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব কাঁধে নিতে গিয়ে একসময় তাঁকে নগ্ন দৃশ্যেও অভিনয় করতে হয়েছিল।

৩০ জুলাই এমবিএনের অনুষ্ঠান ‘স্পেশাল ওয়ার্ল্ড’–এ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা জানান কিম সে–ইন।

২০০৪ সালে ‘সেম বেড, ডিফারেন্ট ড্রিমস’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় কিমের। এরপর ২০১১ সালে এসবিএসের অনুষ্ঠান ‘ওহ মাই গড’–এ অংশ নিয়ে পরিচিতি লাভ করেন তিনি। তবে ২০১৩ সালে হঠাৎ করেই বিনোদনজগৎ থেকে সরে দাঁড়ান এই অভিনেত্রী।

অভিনয়জীবনের সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কিম বলেন, ‘আমার সংস্থার প্রধান আমাকে নানা বিনোদনকেন্দ্রে নিয়ে যেতেন এবং নিয়মিত মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এর মধ্যেই আমার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রতিটি দিন নরকের মতো ছিল। বেঁচে থাকতেই ঘৃণা লাগত।’

কিম জানান, ব্যবসায়ী বাবার পরিবারে বেড়ে উঠলেও হঠাৎ আর্থিক সংকটে তাঁদের পারিবারিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। এমনকি একসময় তাঁদের গুদামঘরেও থাকতে হয়েছে। পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার জন্যই তিনি অভিনয়জগতে কাজ শুরু করেছিলেন।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, ‘তখন কয়েক কোটি ওন খুবই দরকার ছিল। পরিবারের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে দায়িত্ব আমাকে নিতে হয়েছিল। সেই সময় জীবিকার তাগিদে নগ্ন দৃশ্যেও অভিনয় করেছি। বিষয়টি নিয়ে আমার বাবা খুবই ক্ষুব্ধ ছিলেন।’

বর্তমানে কিম সে–ইন সাতটি পরিত্যক্ত কুকুর, খরগোশ, মুরগিসহ মোট ১৫টি প্রাণীর দেখাশোনা করেন। সংসারের খরচ চালাতে তিনি খাবার সরবরাহের খণ্ডকালীন কাজও করছেন বলে জানান।

কিম আরও জানান, দুই বছর আগে তাঁর বাবা হৃদ্‌রোগে মারা গেছেন। বাবাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই তিনি এখন পরিত্যক্ত কুকুরগুলোর দেখাশোনা করছেন। অন্যদিকে, তাঁর মা ১৫ বছর আগে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হওয়ার পর আর জ্ঞান ফিরে পাননি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কিম বলেন, ‘আমি ভালোভাবে বাঁচতে চাই। কঠোর পরিশ্রম করে এখন যে বড় পরিবারটি আমার আছে, তাদের শেষ পর্যন্ত আগলে রাখতে চাই।’