২০০৮ সালের মে মাসে মুম্বাইয়ের টেলিভিশন এক্সিকিউটিভ ও কাস্টিং ডিরেক্টর নীরজ গ্রোভারের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় শুরু হয়েছিল একটি সাধারণ তদন্ত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেটি রূপ নেয় ভারতের অন্যতম আলোচিত ও শিহরণ জাগানো হত্যাকাণ্ডে। এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন উদীয়মান অভিনেত্রী মারিয়া সুসাইরাজ এবং তার হবু স্বামী, ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট এমিল জেরোম ম্যাথিউ।নীরজ গ্রোভার মুম্বাইভিত্তিক প্রযোজনা সংস্থা ‘সিনার্জি অ্যাডল্যাবস’-এ কর্মরত ছিলেন। নতুন শিল্পীদের টেলিভিশন অঙ্গনে সুযোগ করে দিতে তিনি সহায়তা করতেন বলে সহকর্মীদের মধ্যে পরিচিত ছিলেন।
সেই সূত্রেই কন্নড় অভিনেত্রী মারিয়া সুসাইরাজের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। জানা যায়, মারিয়ার জন্য অডিশনের ব্যবস্থা করা এবং বিনোদন জগতে পরিচিতি তৈরি করে দিতে সহযোগিতা করছিলেন নীরজ।এদিকে মারিয়ার সঙ্গে কোচিতে কর্মরত নৌ কর্মকর্তা এমিল জেরোমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তারা বিয়ের পরিকল্পনাও করেছিলেন। তদন্তে উঠে আসে, মারিয়া জেরোমকে জানিয়েছিলেন যে নীরজ তাকে পছন্দ করতেন, যদিও তার নিজের তেমন কোনো অনুভূতি ছিল না।২০০৮ সালের ৬ মে রাতে নীরজ মারিয়ার মালাডের ভাড়া ফ্ল্যাটে ঘর গোছাতে সাহায্য করতে যান।
রাতের দিকে জেরোম ফোন করলে তিনি পেছনে একজন পুরুষের কণ্ঠস্বর শুনতে পান। মারিয়া জানান, নীরজ রাতের খাবারের পর চলে যাবেন। কিন্তু তিনি সেদিন রাতে ফ্ল্যাটেই থেকে যান।এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মারিয়াকে কিছু না জানিয়েই কোচি থেকে মুম্বাইয়ের উদ্দেশে ফ্লাইটে রওনা দেন জেরোম। পরদিন ৭ মে সকালে তিনি সরাসরি মারিয়ার ফ্ল্যাটে পৌঁছে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘরে ঢুকে নীরজকে দেখতে পেয়েই দুজনের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।মারিয়ার দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, জেরোম প্রথমে নীরজকে মারধর করেন এবং পরে রান্নাঘরের ছুরি দিয়ে একাধিকবার আঘাত করেন।
মারিয়া দাবি করেন, ছুরি থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তার নিজের হাতেও আঘাত লাগে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ওই হামলাতেই নীরজের মৃত্যু হয়।হত্যাকাণ্ডের পরের ঘটনাগুলোও ছিল সমান ভয়াবহ। তদন্তকারীদের দাবি, জেরোমের নির্দেশে মারিয়া ব্যাগ, নতুন ছুরি, পর্দা, বিছানার চাদর ও রুম ফ্রেশনার কিনে আনেন। এরপর নীরজের মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে ব্যাগে ভরা হয়। পরে একটি ধার করা হুন্দাই স্যান্ট্রো গাড়িতে মরদেহ নিয়ে মুম্বাইয়ের বাইরে মানোর এলাকার কাছাকাছি একটি জঙ্গলে গিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এরপর তারা ফ্ল্যাটে ফিরে এসে রক্তের দাগসহ অপরাধের বিভিন্ন আলামত মুছে ফেলার চেষ্টা করেন বলে তদন্তে উঠে আসে।ঘটনার পর দীর্ঘদিন ধরে প্রচার হয় যে নীরজের মরদেহ ৩০০ টুকরো করা হয়েছিল। তবে বিচারিক আদালত পরে এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করে জানায়, এটি মামলার প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।তদন্তে বড় মোড় আসে নীরজের মোবাইল ফোন থেকে। মরদেহ গুম করতে যাওয়ার পথে ফোনে আসা একটি কল মারিয়া অসাবধানতাবশত রিসিভ করে সঙ্গে সঙ্গে কেটে দেন।
/বিএসএস