• ঢাকা
  • রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম


নতুন পে স্কেলের প্রথম ধাপে সুবিধা পাবেন যেসব সরকারি কর্মচারী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৭ মে ২০২৬ ৩:৫৭ পিএম

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রাথমিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় বেতন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে মূল গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারী, স্বল্প পেনশনভোগী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের অভিভাবকদের ওপর।

তবে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় শুরুতেই সবার জন্য পূর্ণাঙ্গ সুবিধা কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নতুন বাজেটে বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে অতিরিক্ত ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এই অর্থ দিয়ে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর মূল বেতনের প্রায় অর্ধেক বাস্তবায়নের চিন্তা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য প্রথম ধাপে বড় অংশের অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে এই স্তরের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে সরকার অগ্রাধিকার দিতে চায়। জাতীয় বেতন কমিশন সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার যে সুপারিশ করেছে, তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রথম ধাপেই কার্যকর করার চিন্তা রয়েছে। এতে নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা দ্রুত কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামোয় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যারা মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। অর্থ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন স্কেলের প্রথম ধাপেই এই স্বল্প পেনশনভোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।

অন্যদিকে, যারা তুলনামূলক বেশি অঙ্কের পেনশন পান, তাদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৫৫ থেকে ৭৫ শতাংশের মধ্যে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে বরাদ্দের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা যায়।

প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোয় ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা বর্তমান ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই সুবিধাটি প্রথম ধাপেই কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার বিষয়টিও সরকারের প্রাথমিক অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে তাদের জন্য মাসিক দুই হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করেছে বেতন কমিশন। অর্থ বিভাগ এই মানবিক প্রস্তাবটি প্রথম ধাপেই কার্যকর করার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবী পরিবারের একটি বিশেষ অংশ সরাসরি উপকৃত হবে।

তবে শুধু নিম্নস্তরের কর্মচারীদের জন্য নয়, সরকারি চাকরিতে দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তাদের ধরে রাখার লক্ষ্যেও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। যদিও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে উচ্চপদের বড় অঙ্কের সুবিধাগুলো আগামী দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে।

/এসএন