• ঢাকা
  • বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম


যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল আমদানি বাড়িয়েছি আমরা, বাংলাদেশের বাড়তি সহায়তা পাওয়া উচিত: অর্থমন্ত্রী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৪০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল আমদানি, বাংলাদেশের বাড়তি সহায়তা পাওয়া উচিত: অর্থমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নয়ন এবং দেশটি থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের আরও সহায়তা পাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা বাংলাদেশের অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়েছে। তবে প্রত্যাশিত সহায়তা বাস্তবে কতটা এবং কীভাবে পাওয়া যাবে, তা এখন দেখার বিষয়।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ব্যাংককে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বৈঠকে ঋণ ব্যবস্থাপনা, মার্কিন সহায়তা এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি চীনের এক্সিম ব্যাংক ও দেশটির সহায়তাসংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাড়তি সহায়তা চাইল বাংলাদেশ

অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশ তেমন সহায়তা পায়নি। তবে বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আরও সহায়তা পাওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘বিগত দিনে আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেমন কিছু পাইনি। কিন্তু বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক যেভাবে এগিয়েছে; আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেকগুলো এয়ারক্রাফট কিনছি, তেল, সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য ও কমোডিটি আমদানি করছি। তাই তাদের কাছ থেকে আমাদের জন্য বাড়তি সহায়তা আসা উচিত। তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছে। এখন দেখা যাক।’

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান, তেল, সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির কারণে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যেও প্রভাব পড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য আমদানি করছে এবং দুই দেশের সম্পর্কও নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের প্রত্যাশিত সহায়তা পাওয়ার সময় এখনই বলে মনে করে সরকার।

তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের জোর দিয়ে বলেছি, বাংলাদেশ যখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এত বেশি আমদানি করছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে, এখন যদি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই সমর্থন না আসে, তাহলে আর কবে আসবে? আমরা যে সহায়তাগুলো আশা করছি, সেগুলো এখন আসা উচিত।’

অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের এ অবস্থানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একমত হয়েছে। তবে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কী পরিমাণ সহায়তা পাওয়া যাবে এবং তা কোন প্রক্রিয়ায় আসবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কিছু জানাননি তিনি।

ঋণের বদলে সরাসরি বিনিয়োগে গুরুত্ব

সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ও যৌথ বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক নীতির মূল লক্ষ্য বিনিয়োগ বাড়ানো। সে কারণে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি বিনিয়োগ এবং যৌথ বিনিয়োগের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে চায় সরকার।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক নীতির মূল জোর হচ্ছে বিনিয়োগ। আমরা ঋণ থেকে সরে এসে সরাসরি বিনিয়োগ ও যৌথ বিনিয়োগের দিকে বেশি যেতে চাই।’

এই নীতি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশ এ পথে এগিয়ে যেতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে আলোচনা

ব্যাংককে সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি চীনের এক্সিম ব্যাংক ও দেশটির সহায়তাসংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এসব বৈঠকে ঋণ ব্যবস্থাপনা, সহায়তা এবং বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সরকারের লক্ষ্য হলো ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ও যৌথ বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানো। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের অগ্রগতির ভিত্তিতে দেশটির কাছ থেকে বাড়তি সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।

তবে এসব আলোচনা থেকে কী ধরনের সহায়তা বা বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে, তা এখনো নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।

/এএসএফ