• ঢাকা
  • বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম


দুর্গাপূজার আর মাত্র দুই দিন বাকি, এখনো বোনাস পাননি বহু চা-শ্রমিক

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৩৫ পিএম

শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকলেও মৌলভীবাজারের অনেক চা-বাগানের শ্রমিক এখনো উৎসব বোনাস পাননি। যেসব বাগানে বোনাস দেওয়া হয়েছে, সেখানেও শ্রমিকদের প্রাপ্য অর্থের তুলনায় কম টাকা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে চা-শ্রমিক সংঘ।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন সংগঠনটির মৌলভীবাজার জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্যামল অলমিক ও সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ণ হাজরা।

বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হওয়ার কথা। অথচ মালনীছড়া ও রাজনগরসহ মৌলভীবাজারের অনেক চা-বাগানের শ্রমিক এখনো তাঁদের উৎসব বোনাস পাননি। এ ছাড়া কয়েকটি বাগানে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরিও পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

চা-শ্রমিক সংঘের অভিযোগ, কমলগঞ্জের শমশেরনগর, দেওছড়া, ডবলছড়া, চাতলাপুর ও তিলকপুরসহ বিভিন্ন চা-বাগানে পূর্ণাঙ্গ উৎসব বোনাসের পরিবর্তে কর্মস্থলে উপস্থিতির ভিত্তিতে হাজিরা বা উৎসাহ বোনাস দেওয়া হচ্ছে। এতে শ্রমিকেরা তাঁদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি সংগঠনটির নেতাদের।

সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, একজন চা-শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১৯৬ টাকা ৮০ পয়সা ধরে ৫৫ দিনের মোট মজুরি দাঁড়ায় ১০ হাজার ৮২৪ টাকা। এই অর্থের ৬০ শতাংশ হিসাবে একজন শ্রমিকের উৎসব বোনাস পাওয়ার কথা ৬ হাজার ৪৯৪ টাকা ৪০ পয়সা। তবে বাস্তবে অনেক শ্রমিককে এর চেয়ে কম অর্থ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে চা-শ্রমিক সংঘ।

বিবৃতিতে কয়েকজন শ্রমিকের বোনাসের পরিমাণও উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শমশেরনগরের শেফালী রেলী পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৭০ টাকা, চাতলাপুরের সাবিত্রি নাউড় পেয়েছেন ১ হাজার ৩০০ টাকা এবং দেওছড়ার রামনারায়ণ গৌড় পেয়েছেন ৩ হাজার ২৪৭ টাকা।

চা-শ্রমিক সংঘের নেতারা দাবি করেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ২(২ক) ধারা, শ্রমবিধিমালা ২০১৫-এর ১১১(৫) বিধি এবং ২০২৩ সালের ১০ আগস্ট প্রকাশিত চা-শিল্পের নিম্নতম মজুরির গেজেট অনুযায়ী শ্রমিকদের উৎসব বোনাস দেওয়ার বিধান রয়েছে। এসব বিধানে উপস্থিতির শর্তে বোনাস দেওয়ার কথা উল্লেখ নেই বলেও দাবি করেন তাঁরা।

এ ছাড়া ক্যাজুয়াল বা অস্থায়ী শ্রমিকদের সমান মজুরি দেওয়ার বিধান থাকলেও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির নেতারা।

বাগান কর্তৃপক্ষ শ্রম আইন মানছে না অভিযোগ করে তাঁরা বলেন, উৎসব বোনাস নিয়ে এমন পরিস্থিতির কারণে পূজার আগে চা-শ্রমিকদের উৎসবের প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। পূজা সামনে রেখে বোনাস ও বকেয়া মজুরি না পাওয়া এবং প্রাপ্যের তুলনায় কম অর্থ দেওয়ার ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

/এসএন