চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কয়েক হাজার কোটি টাকা মূল্যের পণ্যবোঝাই কয়েক হাজার কনটেইনারের জটিলতার এখনো সমাধান হয়নি। প্রায় ১৫ বছর আগে থেকেই এসব পণ্য নিলামে বিক্রির জন্য ৮০ দফা চিঠি দেওয়া হলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে অধিকাংশ কনটেইনারের পণ্য এখনো নিলাম করা সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন কনটেইনারে পড়ে থেকে অনেক পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ কারণে বিদেশি শিপিং লাইনের কনটেইনার দীর্ঘ সময় ধরে বন্দরে আটকে থাকায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস প্রতি মাসে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ২০ থেকে ৩০টি কনটেইনারের পণ্য বিক্রি করে থাকে। বিডারদের উপস্থিতিতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে এই নিলাম কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
নিলামে সাধারণত কমলা, মাল্টা, খেজুর, আদাসহ বিভিন্ন ধরনের পচনশীল পণ্য বিক্রি করা হয়। এছাড়া কিছু কনটেইনারের পণ্য ই-অকশনের মাধ্যমেও বিক্রি করা হয়ে থাকে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শেডে নিলামের অপেক্ষায় রয়েছে ২ হাজার ৭৪৮টি ২০ ফুট এবং ৬ হাজার ৬১৮টি ৪০ ফুট কনটেইনার। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় এসব কনটেইনারের ভেতরে থাকা পণ্য ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, বন্দরের মোট ধারণক্ষমতার প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ জায়গা সব সময় নিলামযোগ্য কনটেইনার দখল করে রাখে। এসব কনটেইনার সরানো গেলে নতুন আমদানি ও রপ্তানি পণ্য সংরক্ষণের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জায়গা খালি হবে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, নিলামের জন্য ২ হাজার ৬৯৭টি কনটেইনার অন্তর্ভুক্ত করা হলেও অনুমোদন পাওয়া গেছে ১ হাজার ৬১৯টির। এছাড়া গত বছর ৪৯৩টি এবং চলতি বছরে আরও ৪৯৫টি কনটেইনার নিলাম শেষে বিডারদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অর্থাৎ গত দেড় বছরে মোট ৯৮৮টি কনটেইনার খালাস হলেও একই সময়ে নিলামের তালিকায় নতুন করে আরও কয়েকশ কনটেইনার যুক্ত হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের এ জটিলতা এখনো পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, নিলাম কার্যক্রম নির্ধারিত আইন ও বিধি অনুসারে পরিচালিত হয়। তাই প্রক্রিয়াগত কারণে কিছুটা সময় লাগলেও সর্বোচ্চ গতিতে কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
/এসএন