• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৪ এএম


মায়ের লাশ পেতে ছেলেকে কান ধরে ওঠবস: রংপুর মেডিকেলে নজিরবিহীন ঘটনা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৪ জুন ২০২৬ ৪:৪২ পিএম

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে চিকিৎসকরা মৃত রোগীর মরদেহ আটকে রাখেন এবং প্রায় তিন ঘণ্টা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রাখেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে মৃতের ছেলে রিফাত হোসেনকে বাসা থেকে ডেকে এনে মায়ের মরদেহ ফেরত দেওয়ার শর্তে হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ের একটি কক্ষে কান ধরে ওঠবস করানো হয়।

এরপর তাকে মায়ের মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়।ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। মরদেহ আটকে রেখে ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রংপুর নগরীর নিউ জুম্মপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাহবুব রহমানের স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৫৫) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার ছেলে রিফাত হোসেন দ্রুত তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

সেখানে চিকিৎসকদের কাছে রোগীকে অক্সিজেন দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও আগে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা বলা হয়। এ সময় রোগীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং রাত ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।চিকিৎসকদের দাবি, রোগীর মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ স্বজনরা দায়িত্বরত চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালান। এর পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ মর্গে রাখা হয়। একই সঙ্গে বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করেন চিকিৎসকরা।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রিফাতকে হাসপাতালে এসে ক্ষমা চাইতে হবে—এমন দাবি জানানো হয়েছিল। পরে প্রায় ১১ ঘণ্টা পর বিকেল ৩টার দিকে রিফাত হাসপাতালে এলে তাকে একটি কক্ষে নিয়ে কান ধরে ১০ বার ওঠবস করানো হয়। এরপর তার মায়ের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।মৃত নুরজাহান বেগমের বড় ছেলে নুরুজ্জামান রিন্টু জানান, স্ত্রীর ফোন পেয়ে হাসপাতালে এসে তিনি উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দেখতে পান। তিনি অভিযোগ করেন, সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মায়ের মরদেহ আটকে রাখা হয়েছিল।

এমনকি অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পরও মরদেহ নামিয়ে নেওয়া হয়। মরদেহ হস্তান্তরে বিলম্ব হওয়ায় বেলা দেড়টার দিকে পরিবারের সদস্যরা মেডিকেল মোড় এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।প্রত্যক্ষদর্শী, ইন্টার্ন চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ এবং রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কার্ডিওলজি বিভাগে অক্সিজেন না দেওয়ার অভিযোগ তুলে মায়ের মৃত্যুর পর কর্তব্যরত সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. রাকিবুল হাসান ও ইন্টার্ন চিকিৎসক নাঈমের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন রিফাত।

একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।রংপুর ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মিরাজ বলেন, “আমরা সকাল থেকেই বলে আসছিলাম, লাশ নিয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। তবে যে ব্যক্তি চিকিৎসকদের ওপর হামলা করেছে, তাকে এখানে আসতে হবে।

আমাদের দাবি ছিল তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এরপরই মরদেহ নিয়ে যেতে দেওয়া হবে। বিকেলে অভিযুক্ত ছেলে এসে কান ধরে ওঠবস করে ক্ষমা চেয়ে মরদেহ নিয়ে গেছে।”এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আশিকুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। রোগীকে হাসপাতালে আনার পরপরই মৃত্যু হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দায়িত্বরত চিকিৎসকের কোনো গাফিলতি ছিল না। কোনো কারণ ছাড়াই চিকিৎসক নাঈম, রাকিবসহ অন্যদের মারধরের চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি দায়িত্বরত নার্সের সঙ্গেও অশোভন আচরণ করা হয়েছে। রোগীর স্বজনদের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”তবে মৃতের ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করিয়ে মরদেহ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “এটিও খুবই নিন্দনীয়”

/বিএসএস