• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৩ পিএম


১৮ লাখ টাকায় নির্মিত পাবলিক টয়লেট, এখন ডেকোরেটরের গুদাম!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩ আগস্ট ২০২৬ ৮:৪৮ পিএম

শেরপুর সদর উপজেলার ৫ নম্বর ধলা ইউনিয়নের করইতলা বাজারে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি পাবলিক টয়লেট দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের ব্যবহার থেকে বঞ্চিত। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের এই স্থাপনাটি বর্তমানে একটি ডেকোরেশন ব্যবসার মালামাল রাখার গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অযত্ন-অবহেলায় টয়লেটটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এমনকি এর ভেতরে মাদকসেবনের আলামতও পাওয়া গেছে।

রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টয়লেটের ভেতরে ডেকোরেটরের বিভিন্ন সামগ্রী স্তূপ করে রাখা হয়েছে। অভ্যন্তরের পরিবেশ দেখে স্থানীয়দের ধারণা, এটি মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। টয়লেটের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও সেখানে নেই।

শেরপুর সদর উপজেলার জনস্বাস্থ্য অফিসের তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর টয়লেটটি নির্মাণ করে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে জ্বিলানী ট্রেডার্স। ২০২৩ সালের জুন মাসে এটি করইতলা বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারের এক ডেকোরেটর ব্যবসায়ী শফিক টয়লেটটি নিজের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন। এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। ভিডিও ধারণের সময় তার এক স্বজনও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত এই পাবলিক টয়লেট সাধারণ মানুষ ব্যবহার করতে পারছে না। এমনকি অনেকেই জানেন না যে বাজারে এমন একটি টয়লেট রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোশাররফ মিয়া বলেন, তার বাড়ি বাজারের পাশেই হলেও তিনি কোনো দিন এই পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করতে পারেননি। তার অভিযোগ, ভেতরে মালামাল রেখে পরিবেশ নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। টয়লেটের ভেতরে ঢুকলে এটি পরিত্যক্ত কোনো ভবন বলে মনে হয়।

আরেক বাসিন্দা মিলন মিয়া বলেন, ‘এখানে পাবলিক টয়লেট আছে, সেটাই জানতাম না। আমরা যতটুকু জানি, এটি ডেকোরেটরের গুদাম। তাই সেখানে যাওয়ার প্রয়োজনও হয়নি। এটি আদৌ ব্যবহার উপযোগী হবে কি না, সেটাও জানি না।’

এ বিষয়ে করইতলা বাজার কমিটির সভাপতি ও ধলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন বলেন, পাবলিক টয়লেটটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি বলেন, নির্মাণের পর থেকেই এটি কার্যকরভাবে ব্যবহার হয়নি। ডেকোরেটরের গুদাম হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছিল।

অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামাল হোসেন বলেন, টয়লেটটি নির্মাণের পর ছয় মাস পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাদের ছিল। এরপর এটি বাজার কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তারা কীভাবে এটি পরিচালনা করছে, তা তাদের জানা নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে বাজার কমিটির সঙ্গে কথা বলা হবে বলে জানান তিনি।

সরকারি অর্থে নির্মিত জনসেবামূলক স্থাপনা জনসাধারণের কাজে ব্যবহার না হয়ে ব্যক্তিগত গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত টয়লেটটি দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন।

/এসএন