চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় জন্মের ২৭ বছর পর বাবার স্বীকৃতি পেয়েছেন এক যুবক। আদালতের নির্দেশে করা ডিএনএ পরীক্ষায় তার দাবির সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ছেলে হিসেবে স্বীকৃতি দেন তার বাবা।
এ উপলক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার সুব্রত দাশের সভাপতিত্বে একটি মধ্যস্থতা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বাবা প্রথমবারের মতো ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরলে সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বীকৃতি পাওয়া ওই যুবকের জন্মের আগেই তার মা-বাবার বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর তার বাবা বিদেশে চলে যান। মা শিশুসন্তানকে নিয়ে ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই বড় হতে থাকেন তিনি।
বড় হওয়ার পর জানতে পারেন, তার বাবা দেশে ফিরে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। নিজের পরিচয় জানার আগ্রহ এবং বাবার স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় তিনি বাবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে শুরুতে তার বাবা তাকে সন্তান হিসেবে স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানান।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুন মাসে তিনি জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার (লিগ্যাল এইড) চট্টগ্রাম কার্যালয়ে আবেদন করেন। আবেদনের পর আদালতের নির্দেশে মা, বাবা ও ছেলের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
পরীক্ষার ফলাফলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, যুবকের দাবিই সত্য। পরে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে পাঠায়।
প্রতিবেদন পাওয়ার পর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মধ্যস্থতা সভায় বাবা আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে নিজের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দেন। একই সঙ্গে তিনি সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, বসবাসের জন্য দুই লাখ টাকা প্রদান এবং আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে ছেলেকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার করেন।
স্বীকৃতি পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ওই যুবক বলেন, এতদিন তিনি বাবার পরিচয় দিতে পারতেন না। এ কারণে মানুষের নানা প্রশ্ন ও কটূক্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। অবশেষে বাবা তাকে সন্তান হিসেবে মেনে নেওয়ায় তার দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার সুব্রত দাশ বলেন, জন্মের ২৭ বছর পর একজন সন্তান তার বাবাকে ‘বাবা’ বলে ডাকতে পেরেছেন এবং একজন বাবা তার জন্ম দেওয়া সন্তানকে স্বীকৃতি দিয়ে প্রথমবারের মতো বুকে জড়িয়ে ধরেছেন। এটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন একটি মুহূর্ত।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিনের এই বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা হওয়ায় লিগ্যাল এইডের পক্ষ থেকে বাবা ও ছেলেকে শুভেচ্ছাস্বরূপ উপহার দেওয়া হয়েছে।
/এএসএফ