টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পেকুয়া গ্রামে পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ঘটেছে ব্যতিক্রমধর্মী এক ঘটনা। স্ত্রী প্রেমিকের সঙ্গে চলে যাওয়ার পর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ওই প্রেমিকের স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন এক যুবক। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
রোববার (৭ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাজাহান সিরাজ।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, পেকুয়া গ্রামের সাইজুদ্দীন মিয়ার ছেলে হাসান প্রায় ১৫ বছর আগে পারিবারিকভাবে জহুরা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানে বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন সাতক্ষীরার বাসিন্দা রাজু মিয়া। কর্মস্থল ও বসতবাড়ি কাছাকাছি হওয়ায় ধীরে ধীরে রাজুর সঙ্গে হাসানের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে সেই সম্পর্ক পরকীয়ায় রূপ নেয় বলে জানা যায়।
গত ৭ মে রাজু মিয়া জহুরা আক্তারকে নিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন হাসান। পরে তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
ঘটনা সম্পর্কে হাসান মিয়া বলেন, ‘ও আমার বউ নিয়ে গেছে, তাই আমি ওর বউ নিয়ে এসেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরকীয়া প্রেমের শাস্তি দিতেই আমি এমন কাজ করেছি।’
হাসানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্ত্রী জহুরা আক্তার চলে যাওয়ার পর তিনি রাজু মিয়ার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। কয়েক দফা আলোচনা ও যোগাযোগের পর গত ৪ জুন রাজুর স্ত্রী তার তিন বছরের সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে সাতক্ষীরা থেকে মির্জাপুরে আসেন। পরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
এ বিষয়ে রাজু মিয়ার বক্তব্য জানতে গণমাধ্যমকর্মীরা একাধিকবার তার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ এটিকে প্রতিশোধমূলক ঘটনা হিসেবে দেখছেন। আবার অন্যরা মনে করছেন, এটি পারিবারিক ও নৈতিক মূল্যবোধের সংকটের একটি প্রতিফলন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পরকীয়ার প্রভাব নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন।
/এসএন