জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় ধান কাটার ‘কামলা’ সম্বোধন করে কথা বলাকে কেন্দ্র করে শ্যামল চন্দ্র মালী (৫০) নামে এক দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের কাশিড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত হাসান আলীকে (৩৫) আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতেই নিহত শ্যামল চন্দ্র মালীর ছোট ভাই পরিমল চন্দ্র মালী বাদী হয়ে আক্কেলপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। রোববার সকালে ওই মামলায় হাসান আলীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
নিহত শ্যামল চন্দ্র মালী কাশিড়া গ্রামের মৃত বীরেন মালির ছেলে। অপরদিকে অভিযুক্ত হাসান আলী একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী ঢেকুঞ্চা বাউস্তা গ্রামের বুদা মিয়ার ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শ্যামল চন্দ্রের পরিবারে তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, হাসান আলী ভবঘুরে প্রকৃতির এবং মাদকাসক্ত।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে শ্যামল চন্দ্র কাশিড়া হাটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পথে কাশিড়া সড়কে হাসান আলীর সঙ্গে তার দেখা হয়। এ সময় শ্যামল গ্রামের পরিচিত ব্যক্তি হিসেবে হাসানকে ‘কামলা’ বলে সম্বোধন করে গ্রামের এক ব্যক্তির জমির ধান কাটার বিষয়ে কথা বলেন।
এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে হাসান আলী ক্ষিপ্ত হয়ে গাছের ডাল দিয়ে শ্যামল চন্দ্রের মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর হাসান আলী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিহতের ভাতিজা সুশান্ত চন্দ্র মালী প্রায় এক কিলোমিটার ধাওয়া করে তাকে আটক করেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিহতের মরদেহ রাখা হলে সেখানে স্ত্রী দীপালী মালীসহ স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
নিহতের স্ত্রী দীপালী মালী বলেন, ‘আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই। আমার ছেলে-মেয়েরা আজ এতিম হয়ে গেল।’
আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহজাবিন আক্তার জানান, শ্যামল চন্দ্র মালীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে আক্কেলপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত হাসান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
/এসএন