• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০২:০৯ এএম


উলিপুরে মাস্টার প্ল্যানে সেতু থাকলেও বাস্তবে ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৯ মে ২০২৬ ১২:৩১ এএম

কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভার বলদিপাড়া এলাকায় বুড়ি তিস্তার ওপর নির্মিত একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোকে ঘিরে দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ১০ হাজার মানুষ। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পার হয়ে যাতায়াত করছেন শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সেতুর দাবি উঠলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বলদিপাড়া গ্রামে অবস্থিত এই সাঁকোটি উলিপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে উলিপুর-চিলমারী সড়কসংলগ্ন সরকারি রাস্তার ওপর নির্মিত। স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তবুও বলদিপাড়া ও নূরপুর গ্রামের মানুষ বাধ্য হয়েই প্রতিদিন এটি ব্যবহার করছেন।

স্থানীয়দের দাবি, দুই গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এই সাঁকো। প্রতিদিন বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কর্মজীবী মানুষ, নারী ও বৃদ্ধরা এই পথ দিয়েই চলাচল করেন।

এলাকার দিনমজুর আবেদ আলী বলেন, নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা এখানে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও কেউ কথা রাখেননি।

সেতু থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে অবস্থিত নূরপুরের হযরত ফাতিমা (রাঃ) পৌর বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজ রুহুল আমিন জানান, বলদিপাড়া গ্রামের প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী তাদের প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে। কিন্তু নড়বড়ে সাঁকো পার হতে ভয় পাওয়ায় অনেক কোমলমতি শিক্ষার্থী দূরের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হচ্ছে। কেউ কেউ আবার প্রায় দুই কিলোমিটার ঘুরে স্কুলে আসে। তিনি আরও জানান, উলিপুর পৌরসভার মাস্টার প্ল্যানেও এখানে সেতু নির্মাণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে বুড়ি তিস্তা নদীর প্রবাহ কমে গেলে সেখানে একটি কালভার্ট নির্মাণ করেছিল পৌরসভা। পরে নদী খননের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটে এবং সেখানে স্থায়ী সেতুর প্রয়োজন দেখা দেয়। তখন সাময়িক সমাধান হিসেবে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে সেটিই দুই গ্রামের মানুষের একমাত্র যোগাযোগের পথ।

নূরপুর এলাকায় একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এনজিও অফিস রয়েছে। মিফতাহ আল নূর ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, বলদিপাড়া গ্রামের প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই সাঁকো পার হয়ে তাদের স্কুলে আসে।

সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিউল ও সজিবের সঙ্গে। তারা জানায়, পানি বাড়লে সাঁকো পার হতে তাদের খুব ভয় লাগে। তখন প্রায় দুই কিলোমিটার ঘুরে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। একই ধরনের কথা জানায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাজেদা ও আফরুজা।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মান্নান ও আনিসুর বলেন, বাঁশের সাঁকোর জায়গায় দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা জরুরি। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে না, ফলে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

অন্যদিকে বলদিপাড়া গ্রামেই অবস্থিত উলিপুর আদর্শ কলেজ। কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরও প্রায় তিন কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে উলিপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম বলেন, মাস্টার প্ল্যানে সেতু নির্মাণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভবিষ্যতে বরাদ্দ পাওয়া গেলে এই সেতু নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

/এসএন