মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের বড় রায়পাড়া গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্পের সামনের নদীতীর ঘেঁষে রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে নদীর পাড় কেটে বালু তোলার কারণে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২৮টি ঘর নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এডিপির অর্থায়নে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বড় রায়পাড়া নদীর পাড় এলাকায় একটি আরসিসি রাস্তা নির্মাণ করছে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স মালিহা এন্টারপ্রাইজ’। যদিও রাস্তার মূল কাঠামো আরসিসির, তবে কিছু অংশে মাটি ভরাটের প্রয়োজন রয়েছে। সেই ভরাট কাজের জন্যই নদীতীর থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে।
এলজিইডি সূত্রে আরও জানা যায়, প্রথমে রাস্তা খেলার মাঠের পাশ দিয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু স্থানীয়দের আপত্তির মুখে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে নদীর পাড় ঘেঁষে রাস্তা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে এ নিয়েও স্থানীয়দের আপত্তি ওঠায় কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীর থেকে অ্যাস্কেভেটর দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। স্থানীয় মোতালেবসহ কয়েকজন ব্যক্তি এই কাজ তদারকি করছিলেন। আশ্রয়ণ প্রকল্প রক্ষায় আগে যে জিও ব্যাগ ও প্রটেকটিভ ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছিল, ঠিক তার নিচ ও পাশ থেকেই বালু তোলা হচ্ছে। এতে প্রকল্পের ঘরগুলোর সামনের মাটি সরে গিয়ে যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, “এভাবে নদী থেকে বালু তুলে রাস্তা করলে ঘরগুলো টিকবে না। পাঁচ বছর আগে বৃষ্টির পানির তোড়ে এখানকার ঘর ভেঙে পড়েছিল। পরে অনেক টাকা খরচ করে ব্লক ও জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানো হয়েছিল।”
আরেক বাসিন্দা রোকসানা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নদী থেকে বালু না তুলে অন্য জায়গা থেকে এনে রাস্তার কাজ করা হোক। এখান থেকে বালু তোলা বন্ধ না হলে পেছনের ঘরগুলো নদীতে চলে যাবে।”
এ বিষয়ে ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন মেম্বার বলেন, “কাজটি আমার লাইসেন্সে স্থানীয় কয়েকজন করছেন। বর্তমানে সেখানে কী হচ্ছে বা কীভাবে কাজ হচ্ছে, তা আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে পরে জানাব।”
গজারিয়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. সামিউল আরফিন বলেন, “আশ্রয়ণ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কোনো কাজ আমরা করব না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অন্য জায়গা থেকে মাটি আনতে বলা হয়েছে। নদীর পাড় ঘেঁষে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে রাস্তার কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, “বিষয়টি আমি জেনেছি। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৫ জুলাই টানা বৃষ্টির কারণে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুটি ঘরের অংশবিশেষ ভেঙে সামনের দিকে হেলে পড়ে। সেই ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হলে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে প্রটেকটিভ ওয়াল ও জিও ব্যাগ স্থাপন করে ঘরগুলো রক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। তবে বর্তমানে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে সরকারের সেই উন্নয়নকাজ এবং আশ্রয়হীন মানুষের আবাসন আবারও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
/এসএন