তানোর উপজেলা-এ জ্বালানি সংকট, শ্রমিকের অভাব, ধানের কম দাম এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে চরম সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। মাঠজুড়ে পাকা ধান থাকলেও সময়মতো কাটতে না পারায় তাদের উদ্বেগ বাড়ছে দিন দিন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিলপাড়ের জমিগুলো পাকা ধানে ভরে থাকলেও শ্রমিক সংকটের কারণে সেই ধান ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকরা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কালবৈশাখী ও বৃষ্টির আশঙ্কা। ফলে দ্রুত ধান কাটতে গ্রামের পর গ্রাম ঘুরে শ্রমিক খুঁজছেন তারা।
কৃষকদের অভিযোগ, ধানের দাম এতটাই কম যে এক মণ ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের মজুরিও ওঠে না। সাধারণত বহিরাগত শ্রমিকদের ওপর নির্ভর করেই ধান কাটা হয়, কিন্তু কম দামের কারণে তারা আসতে আগ্রহী নন। আবার ধান কাটার পর পরিবহনের জন্য ট্রলি প্রয়োজন হলেও জ্বালানি সংকটে সেটিও পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে শ্রমিকরা সময়মতো এসে ধান কাটার প্রস্তুতি নিতেন, কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনেক জমির ধান অতিরিক্ত তাপে নুয়ে পড়ছে, যা কাটতে আরও বেশি শ্রম ও খরচ লাগে। এতে কৃষকদের লোকসান আরও বাড়ছে।
ধানের বাজারদর ও উৎপাদন খরচের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘায় প্রায় ২৩ হাজার টাকা খরচ হলেও উৎপাদিত ধানের মূল্য দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২০ হাজার টাকার মতো। ফলে প্রতি বিঘায় ৩-৪ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, যেকোনো উপায়ে দ্রুত ধান কাটতে হবে, কারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে।
সব মিলিয়ে শ্রমিক ও জ্বালানি সংকটের সঙ্গে কম দামের চাপ—এই তিন সংকটে রাজশাহীর তানোরের কৃষকরা এখন কঠিন সময় পার করছেন।