• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৯ পিএম


ভালোবাসার টানে ফিনল্যান্ড ছেড়ে বাংলাদেশে যুবক, সিমি ও রায়হানের নতুন জীবন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ৯:১৯ পিএম

বাবার মৃত্যুর পর মাকে ঘিরেই বেড়ে উঠছিল পাঁচ বছর বয়সী শিশু রায়হান। প্রায় তিন বছর ধরে বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত শিশুটির জীবনে এবার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। মায়ের দ্বিতীয় বিয়ের মধ্য দিয়ে নতুন বাবাকে পেয়েছে সে। ভালোবাসার টানে ফিনল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে এসে রায়হানের মা শান্তিনা জাহান সিমিকে বিয়ে করেছেন ফিনল্যান্ডের নাগরিক মিকাইল। একই সঙ্গে রায়হানকেও নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসা ও আপন করে নেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।

ঘটনাটি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে শান্তিনা জাহান সিমির প্রথম স্বামী প্রায় তিন বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর পাঁচ বছর বয়সী ছেলে রায়হানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন তিনি।

স্বামীকে হারানোর পর একাই সন্তানকে বড় করে তুলছিলেন সিমি। এ সময় ফিনল্যান্ডে বসবাসকারী এক আত্মীয়ের মাধ্যমে দেশটির ৩৮ বছর বয়সী নাগরিক সিমোলা মিকার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুঠোফোনে নিয়মিত যোগাযোগের মধ্য দিয়ে তাঁদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

সিমি ও তাঁর সন্তানকে নিজের জীবনের অংশ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ২ অক্টোবর বাংলাদেশে আসেন মিকাইল। দুই পরিবারের সম্মতিতেই তাঁদের বিয়ের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশে এসে জামালপুর জজ কোর্টে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে খ্রিষ্টধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন মিকাইল। পরে নিজের নাম পরিবর্তন করে মিকাইল রাখেন তিনি। এরপর ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে নিবন্ধিত কাজির মাধ্যমে সিমির সঙ্গে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ১০ লাখ টাকা।

এই বিয়ের মধ্য দিয়ে সিমি ও মিকাইলের নতুন দাম্পত্য জীবনের সূচনা হয়েছে। একই সঙ্গে বাবাকে হারানোর প্রায় তিন বছর পর নতুন করে বাবার স্নেহ ও ভালোবাসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে শিশু রায়হানের জীবনে।

মিকাইল ও সিমির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী ১৮ অক্টোবর ফিনল্যান্ডে ফিরে যাবেন মিকাইল। সেখানে গিয়ে সিমি ও তাঁর সন্তানের ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এরপর তাঁদের ইউরোপে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে এই নবদম্পতির।

এদিকে তাঁদের বিয়ের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকেই নবদম্পতিকে শুভকামনা জানাচ্ছেন।

স্থানীয় রাব্বি নামের এক যুবক বলেন, তাঁদের এলাকায় একজন বিদেশি যুবক বিয়ে করতে এসেছেন—এমন খবর শুনে তাঁকে দেখতে অনেকে ছুটে এসেছেন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশের মেয়েরা যেমন ভালোবাসার টানে বিদেশে যান, তেমনি বিদেশি যুবকেরাও ভালোবাসার টানে বাংলাদেশে আসেন।

নতুন জীবন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শান্তিনা জাহান সিমিও। তিনি জানান, একসময় তাঁর মনে হতো, জীবনের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু মিকাইল তাঁকে ও তাঁর সন্তানকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছেন। জীবনসঙ্গী হিসেবে মিকাইলকে পেয়ে তিনি অত্যন্ত খুশি এবং তাঁর মনে হচ্ছে, নতুন করে জীবন ফিরে পেয়েছেন।

সিমি বলেন, ভালোবাসার ক্ষেত্রে ভাষা কোনো বাধা নয়; মনের ভাষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা দুজন একে অপরকে পেয়ে সুখে আছেন। তাঁর কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, মিকাইল তাঁর ছেলেকে নিজের সন্তানের মতো আপন করে নিয়েছেন এবং ভালোবাসছেন।

মেয়ের জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন বাবা রফিকুল ইসলামও। তিনি বলেন, মেয়ের নতুন জীবন দেখে তিনি খুশি। দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে। মেয়ে, জামাতা ও নাতি যেন সারা জীবন সুখে-শান্তিতে থাকতে পারেন, সে জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বিষয়টি দেখেছেন এবং এ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। তবে এ ঘটনায় থানায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি বা লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।

অন্যদিকে, শিশু রায়হানের বয়স এখনো এত কম যে এ ঘটনা নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার মতো অবস্থায় সে নেই। তার ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে মা সিমি তাকে ক্যামেরার সামনে আনতে সম্মতি দেননি।

/এসএন