ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলনের পেছনে বাংলাদেশের একটি অংশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাবড়ায় একটি দুর্গাপূজার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অভিযোগ করেন।
দিলীপ ঘোষ বলেন, বাংলাদেশের মন্ত্রীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্ট দেখলেই বোঝা যাবে, কারা এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছেন এবং তাঁদের উদ্দেশ্য কী। আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আড়ালে থাকলেও এখন প্রকাশ্যে আসছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিজেপির এই নেতার অভিযোগ, বিদেশে অবস্থানরত যাঁরা ভারতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের ইঙ্গিতেই আন্দোলনকারীরা এসব কর্মসূচি পালন করছেন।
আন্দোলনে বিদেশি অর্থায়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি দাবি করেন, বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আসছে। এই অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতেই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট (এফসিআরএ) বিল আনছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিদেশি অনুদানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং অর্থের ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এই বিলের উদ্দেশ্য। তবে তাঁর অভিযোগ, বিলটি আটকে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ ধরনের আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে।
ককোরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন দিলীপ ঘোষ।
তিনি বলেন, বিরোধীদের হাতে এখন তেমন কোনো কাজ নেই। কখনো পূজার সময় ঘোরাঘুরি ও আনন্দ-উৎসবে অংশ নেওয়া, আবার শীত এলে ধরনায় বসাই তাঁদের কাজ।
পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সাবেক সভাপতি দিলীপ ঘোষ আরও মন্তব্য করেন, যেসব রাজনৈতিক দলকে সাধারণ মানুষ প্রত্যাখ্যান করছে, তারা অন্য দলের আন্দোলনকে অবলম্বন করে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।
/এসএন