টিকটকে পরিচয়, প্রেমের সম্পর্ক; গাইবান্ধায় কিশোর ও গৃহবধূর মৃত্যুগাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় টিকটকে পরিচয় থেকে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর ও এক সন্তানের জননীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁদের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুক্ষণের ব্যবধানে দুজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বোনারপাড়া কলেজ মোড় এলাকার পূর্ব রাঘবপুর গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে ওই কিশোর ও গৃহবধূর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।বিয়ের দাবিতে কিশোরের বাড়িতে গৃহবধূস্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোরের সঙ্গে গৃহবধূর বয়সের ব্যবধান এবং ওই নারীর সংসার ও সন্তান থাকার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছিল। একপর্যায়ে গত রোববার গৃহবধূ বিয়ের দাবিতে কিশোরের বাড়িতে অবস্থান নেন।তবে পরিবারের সদস্যরা তাঁদের সম্পর্ক মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে অস্বস্তি ও টানাপোড়েন তৈরি হয়।বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবনের পর মৃত্যুপরিবারের আপত্তির মুখে সোমবার ওই কিশোর ও গৃহবধূ বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্বজনরা তাঁদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান।সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার কিছুক্ষণের ব্যবধানে দুজনেরই মৃত্যু হয়। তবে কী পরিস্থিতিতে তাঁরা বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবন করেছিলেন এবং মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।বাড়ি থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধারস্থানীয়দের দাবি, কিশোরের মৃত্যুর পর স্বজনরা হাসপাতাল থেকে তাঁর মরদেহ কৌশলে বাড়িতে নিয়ে যান। অন্যদিকে, গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালেই ছিল।পরে বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের ওই বাড়ি থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।তদন্ত করছে পুলিশসাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হুদা বলেন, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
/বিএসএস