• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম


তিন দশক ধরে গাছ লাগাচ্ছেন ইমাম, একমাত্র লক্ষ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯:৩২ এএম

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের বাউল সড়ক। একসময় আর দশটি গ্রামের সড়কের মতোই সাধারণ ছিল এই পথটি। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে এর চেহারা। এখন সড়কের দুই পাশে সারি সারি তালগাছ। পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন জাতের ফলজ ও ঔষধি গাছ। সবুজে ঘেরা এই সড়কের পেছনে রয়েছে একজন মানুষের প্রায় তিন দশকের নিরলস শ্রম।তিনি স্থানীয় কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। ইমামতির পাশাপাশি গাছ লাগানোকে জীবনের অন্যতম কাজ হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে যে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করেছিলেন, তা এখনো অব্যাহত রেখেছেন। বিভিন্ন সড়কের পাশে চারা রোপণের পাশাপাশি নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন তিনি।প্রায় ৩০ বছর আগে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন রেজাউল কিবরিয়া। সেই নার্সারিতে উৎপাদিত এবং বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা চারা দিয়ে এলাকার বিভিন্ন সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ শুরু করেন তিনি। স্থানীয় মানুষকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতে মাইকিংও করতেন।সময়ের সঙ্গে তার লাগানো গাছগুলো বড় হতে থাকে। বিশেষ করে ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সড়কজুড়ে ছায়া ও সবুজের আবরণ তৈরি করেছে। দূর থেকে সড়কটি দেখলে মনে হয়, গাছের সারির মধ্য দিয়ে চলে গেছে একটি সবুজ পথ।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। বিকেল ও সন্ধ্যায় অনেকে এই সড়কে সময় কাটান। শুধু স্থানীয়রাই নন, আশপাশের এলাকার বাইরের মানুষও সড়কটির সৌন্দর্য দেখতে সেখানে আসেন।তবে বাউল সড়কেই রেজাউল কিবরিয়ার বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নয়। ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশে তিনি বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগিয়েছেন। চারা রোপণের পর সেগুলোর পরিচর্যাও করেছেন নিয়মিত। নানা কারণে অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও এতে তার উদ্যোগ থেমে যায়নি।স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠার পর সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় তিনি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছেন। ১৯৯৩-৯৪ সালে এই কাজ শুরু করেন তিনি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছেন। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে সেগুলো রোপণ করছেন।তালগাছ লাগানোর বিষয়ে রেজাউল কিবরিয়া বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, তিনি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখেন। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চান তিনি।গ্রামের সড়ক ও আশপাশের এলাকা আরও সবুজ করে তোলাই তার লক্ষ্য। তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে তাদের ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বানও জানান তিনি।রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের বৃক্ষরোপণ উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি তার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।

/বিএসএস