• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম


বনশ্রীতে কু’কুরকে খাবার দিতে গিয়ে হা’মলার শিকার তরুণী, থানায় অভি’যোগ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭:৪১ পিএম

রাজধানীর বনশ্রীতে পথকুকুরকে খাবার দিতে গিয়ে এক তরুণীকে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে মারধর ও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত তরুণী সুমাইয়া রহমান খিলগাঁও থানায় অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, হামলায় মুখ, চোখের নিচে, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়েছেন তিনি।

ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমকে সুমাইয়া বলেন, মাইনুলের ভাই বারবার উদ্ধত ভঙ্গিতে তার দিকে এগিয়ে আসছিলেন। মারধরের কারণে তার চোখের নিচে নীলচে হয়ে যায় এবং সেটি দেখিয়ে তাকে নিয়ে মন্তব্য করা হয়। এরপরও তাকে বিভিন্ন ধরনের বাজে কথা বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সুমাইয়া বলেন, ‘মাইনুলের ভাই বারবার উদ্ধত ভঙ্গিতে আমার দিকে তেড়ে আসছিলেন। মারধরের কারণে চোখের নিচে নীলচে হয়ে গেছে। সেটা দেখিয়ে আমাকে নিয়ে মন্তব্য করতে থাকেন। এরপরও তারা নানা বাজে শব্দ ব্যবহার করেন। আমি খুবই আতঙ্কে আছি। যেভাবে তারা হামলা করেছে, আমাকে মেরে ফেলতেও তাদের কোনো দ্বিধা ছিল না।’

সুমাইয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর রাত প্রায় ১০টার দিকে তিনি বনশ্রীর এফ ব্লকের ৮/৩ নম্বর সড়কের লাল মিয়া গলিতে কয়েকটি পথকুকুরকে খাবার দিতে যান। তিনি নিয়মিত ওই এলাকায় কুকুরদের খাবার দিয়ে থাকেন। ওই রাতে একটি কাপড়ের দোকানের সামনে কুকুরগুলোকে খাবার দিচ্ছিলেন তিনি।

এ সময় কুকুরগুলো কয়েকটি দোকানের সিঁড়িতে উঠে গেলে ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী এক কিশোর তাকে সেখান থেকে সরে যেতে বলে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। সুমাইয়ার অভিযোগ, ওই কিশোর তাকে গালাগাল করে। তিনি কিশোরটিকে বেয়াদবি না করার কথা বললে দোকানের ভেতর থেকে ২০ থেকে ২২ বছর বয়সী এক তরুণ বেরিয়ে এসে তার মুখে ঘুষি মারেন।

সুমাইয়ার দাবি, এরপর ওই তরুণ আশপাশের লোকজনকে ডেকে আনেন। একপর্যায়ে সেখানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন মানুষ জড়ো হন। তাদের মধ্যে কেউ তাকে মারধর করেন, আবার কেউ গালাগাল ও হেনস্তা করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে এ পরিস্থিতি চলতে থাকে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সুমাইয়ার সঙ্গে থাকা আসিফ ইমতিয়াজও ওই এলাকায় নিয়মিত পথকুকুরকে খাবার দেন। তিনি জানান, দোকানের সামনে থেকে সরে যেতে বলা হলে শুরুতে তারা দুই মিনিটের মধ্যে সেখান থেকে চলে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে সুমাইয়াকে মারধর করা হয়।

পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আসিফ সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করেও সফল হননি। পরে তিনি সুমাইয়াকে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

পরদিন সকালে সুমাইয়া মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তিনি জানান, তার চোয়ালে সবচেয়ে বেশি আঘাত লেগেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে এক্স-রে করার পরামর্শ দেন।

সুমাইয়া বলেন, ‘তারা আমাকে খুব বাজেভাবে আঘাত করেছে। সবচেয়ে বেশি মেরেছে পিঠে। প্রাণ বাঁচাতে কোনো রকমে আমি ওই এলাকা থেকে পালিয়ে আসি।’

চিকিৎসা নেওয়ার পর সুমাইয়া খিলগাঁও থানায় অভিযোগ করেন। গতকাল বিকেলে পুলিশ তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে লাল মিয়া গলিতে যায়।

সুমাইয়ার অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় সেখানে মাইনুল, তার ভাই ও স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, মাইনুলের ভাই আবারও আগ্রাসী ভঙ্গিতে তার দিকে এগিয়ে আসেন এবং ঘটনা নিয়ে তাকে প্রশ্ন করতে থাকেন। হামলার শিকার হওয়ার পরও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় তিনি আরও বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলে জানান সুমাইয়া।

ঘটনাস্থলের স্থানীয় কয়েকজন বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে স্থানীয় বাসিন্দা নূর হোসেন একজন নারীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেন। তার ভাষ্য, কুকুরকে খাবার দেওয়ার কারণে দোকানের জায়গা নোংরা হয়ে যাচ্ছিল—এমন অভিযোগে দোকানের কর্মীরা আপত্তি জানিয়েছিলেন। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে সুমাইয়ার সঙ্গে দোকানের মালিকের তর্ক হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, সুমাইয়াকে প্রথম আঘাত করা ব্যক্তির নাম শুভ। তার দাবি, শুভ স্থানীয় বিএনপি নেতা মাইনুল ও হালিমের সহযোগী এবং পরে তিনিই ঘটনাস্থলে আরও লোকজন ডেকে আনেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী সুমাইয়াকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আজহারুল ইসলাম। তিনি জানান, সুমাইয়ার ওপর হামলার ঘটনা পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। তবে কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

এসআই আজহারুল ইসলাম বলেন, তদন্তের স্বার্থে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তবে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।

/এসএন