• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২১ পিএম


বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহত, গাড়ি চালাচ্ছিল কিশোর

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১৮ পিএম

রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসানের (২৪) মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও পরে তার চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেয়।

তবে এ ঘটনায় গুলশান থানায় দায়ের করা মামলায় ওই কিশোরকে আসামি করা হয়নি। মামলায় গাড়িটির চালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামে একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। এ কারণে প্রশ্ন উঠেছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি আসলে কে চালাচ্ছিল এবং চালকের আসনে থাকা কিশোরকে আটক করার পরও কেন তাকে মামলায় আসামি করা হয়নি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত মেহেদী হাসানের বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিকেলে সড়কের পাশের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন মেহেদী। এ সময় একটি দ্রুতগতির প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়। গাড়ির নিচে পিষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে গাড়ির নিচ থেকে বের করে আনেন।

এরপর মেহেদীকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম (২৮) বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে গুলশান থানায় মামলা করেন।

মামলায় ওই কিশোরের নাম উল্লেখ না করার বিষয়ে মোক্তাদীর ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।

গাড়িটি চালাচ্ছিল কিশোর

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন গাড়িটির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশও তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। ওই কিশোর যাতে ক্ষুব্ধ জনতার হাতে ‘মবের শিকার’ না হয়, সে জন্য তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরে রাতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে তার চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোর গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ও-লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন ক্যাপ্টেন। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়িটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত।

সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুর্ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজেও ওই কিশোরকে চালকের আসনে দেখা গেছে।

ফুটেজে দেখা যায়, গাড়িটি মেহেদীকে চাপা দেওয়ার পর একটি ল্যাম্পপোস্টে জোরে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়। এরপর গাড়ি থেকে দুজনকে বের হতে দেখা যায়।

গাড়ির ডান পাশের দরজা দিয়ে চালকের আসন থেকে কালো টি-শার্ট পরা এক কিশোর বেরিয়ে আসে। অন্য পাশের দরজা দিয়ে শার্ট পরা মধ্যবয়সী একজন ব্যক্তি বের হন।

গাড়ির চারপাশে লোকজন জড়ো হওয়ার পরও ওই দুজনকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পরে কিশোরটিকে ঘটনাস্থল থেকে হেঁটে চলে যেতে দেখা যায়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

চালকের আসনে কিশোর, মামলায় আসামি অন্যজন

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আকাশ মারক (৪৪) বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে মেহেদী হাসানকে চাপা দেন। এতে মেহেদীর মাথা, বুক ও পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর থেকেই আকাশ মারক পলাতক রয়েছেন। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি জব্দ করা হয়েছে। ওই কিশোরের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘নিহত মেহেদীর বড় ভাই গাড়িটির চালক আকাশ মারকের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। ওই কিশোরের নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।’

/এসএন