• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম


সেতুর ফুটপাতে রডের বদলে বাঁশ, বাসাইলের উপজেলা প্রকৌশলী স্ট্যান্ড রিলিজ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫:৪৯ পিএম

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে তাৎক্ষণিক বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে বাসাইল উপজেলা থেকে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান তার স্ট্যান্ড রিলিজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেতুতে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় দফায় দফায় তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে একজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ দুই প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে অভিযানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদক টাঙ্গাইল কার্যালয়ের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেন।

একই ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন এবং বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি অফিস আদেশ ও চিঠির মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

সূত্র আরও জানায়, উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম ও সাব-ঠিকাদার শাহ আলম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে নির্মাণাধীন সেতুটির দৈর্ঘ্য ৯০ দশমিক ০৬ মিটার। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ নামের যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুটির নির্মাণকাজ করছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি রয়েছে ২০ শতাংশ কাজ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই শুরু করেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ করতে বাধা দেন। এ সময় স্থানীয়রা মোবাইল ফোনে বাঁশ ব্যবহারের দৃশ্য ভিডিও করে রাখেন।

স্থানীয়রা চলে যাওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন আবার রাতে কাজ শুরু করে ঢালাই শেষ করেন বলে অভিযোগ করেন তারা। পরে স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী ফাত্তাউর রহমানের স্ট্যান্ড রিলিজের বিষয়টি এড়িয়ে যান টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন। তবে দুই প্রকৌশলীকে শোকজ করার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।

/এএসএফ