• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম


নাতনির মৃত্যুর খবর শুনে দাদির মৃত্যু, কিছুক্ষণ পর জানা গেল নাতনি জীবিত

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৭ আগস্ট ২০২৬ ১১:০৬ এএম

ফেনীর দাগনভূঞায় সড়ক দুর্ঘটনায় নাতনির মৃত্যুর খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে খাইরুন নেছা নামে ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। তবে কিছুক্ষণ পর জানা যায়, যে নাতনির মৃত্যুর খবর শুনে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, সেই জান্নাতুল ফাহিম জীবিত ও সুস্থ রয়েছেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর আলামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে খাইরুন নেছাকে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, রোববার বিকেলে সিলোনীয়া বাজার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় সিলোনীয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী নিহত হয়। একই বিদ্যালয়ের ছাত্রী জান্নাতুল ফাহিম দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ থাকায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তার মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হয়।

একপর্যায়ে নাতনির মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে শোকে ভেঙে পড়েন ৯০ বছর বয়সী দাদি খাইরুন নেছা। তিনি অচেতন হয়ে ঘরে লুটিয়ে পড়েন।

এর কিছুক্ষণ পর স্বজনেরা জান্নাতুল ফাহিমকে সুস্থ অবস্থায় খুঁজে পান। তাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথেই তারা জানতে পারেন, খাইরুন নেছা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। দ্রুত তাকে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খাইরুন নেছা উত্তর আলামপুর গ্রামের সুতা ব্যাপারী বাড়ির বাসিন্দা।

নিহতের ছেলে স্বপন মিয়া বলেন, তিনি অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সিলোনীয়া বাজারে গিয়ে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে কান্নাকাটি করে বাড়িতে স্ত্রীকে বিষয়টি জানান। এ খবর শুনে তার মা নাতনির শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মেয়েকে জীবিত ফিরে পেলেও মাকে হারাতে হয়েছে বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. ইফরাদ খন্দকার জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই খাইরুন নেছার মৃত্যু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নাতনির মৃত্যুর খবর শুনে তীব্র মানসিক আঘাতে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

/এএসএফ