ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুত্রবধূর সঙ্গে অভিমান করে কীটনাশক পান করে জসিম উদ্দিন (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, কীটনাশক পান করার আগে তিনি একটি চিরকুট লিখে গেছেন।রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে ভোরে সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের অষ্টগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত জসিম উদ্দিন অষ্টগ্রামের বলা গাজী বাড়ির মৃত ইদ্রিস মিয়ার ছেলে। অভাবের কারণে তিনি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভোর ৪টার দিকে পুত্রবধূ মাছুমার সঙ্গে অভিমান করে নিজ এলাকার একটি মসজিদের সামনে কীটনাশক পান করেন জসিম উদ্দিন। পরে তিনি মসজিদের বারান্দায় গিয়ে শুয়ে পড়েন। বিষয়টি মসজিদের লোকজন পরিবারের সদস্যদের জানালে দ্রুত তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়।পরিবারের দাবি, কীটনাশক পান করার আগে জসিম উদ্দিন একটি চিরকুট লিখে যান। ওই চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আমি হতভাগা, ছেলের বউয়ের জ্বালায় মরিলাম।’ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, পুত্রবধূর সঙ্গে অভিমান করে এক বৃদ্ধ কীটনাশক পান করেছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।ওসি আরও বলেন, অভিযুক্ত পুত্রবধূ পলাতক রয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।জসিম উদ্দিনের ছেলে হাসান অভিযোগ করেন, তার বাবা অত্যন্ত সহজ-সরল মানুষ ছিলেন। পুত্রবধূর সঙ্গে অভিমান এবং তার তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ সহ্য করতে না পেরে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তার স্ত্রী কখনোই তার বাবাকে যথাযথ সম্মান করতেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।হাসান আরও বলেন, বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার স্ত্রী বাড়ি থেকে চলে গেছেন। এ ঘটনায় তার বাবার মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
/বিএসএস