আজ রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা এস আলমের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে ১৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে নীতিভঙ্গ সহ বিভিন্ন কারণে চাকরিচ্যুত ছয়টি ইসলামী ব্যাংকের কর্মীদের মানববন্ধনের পর, মতিঝিলের দিলকুশা এলাকায় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ পাল্টা কর্মসূচি পালন করে। এ কর্মসূচি থেকে এস আলমের গ্রেপ্তার, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের নতুন একটি ধারা বাতিলের দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচিতে পরিষদের সভাপতি নুরুন নবী মানিক পাঁচ দফা দাবি এবং ১৫ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
পাঁচ দফা দাবি হলো:
১. কথিত ব্যাংক লুটেরা এস আলম ও অন্যান্য শীর্ষ লুটেরাদের গ্রেপ্তার, দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ জব্দ এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা।
২. ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে সংযোজিত ১৮/এ ধারা বাতিল, যা তাদের মতে ব্যাংক লুটেরাদের পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেয়।
৩. এস আলম সংশ্লিষ্ট কথিত ‘মব’ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, যার মধ্যে পটিয়া গ্রুপও রয়েছে; তাদের পুনরায় সক্রিয় হতে দিলে পরিণতির দায় সরকারকে নিতে হবে বলে সতর্ক করা হয়।
৪. কোনো অবৈধ দখলদার গোষ্ঠীকে ব্যাংকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
৫. রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দখল নেওয়া হয়েছে দাবি করে ব্যাংকের মালিকানা প্রকৃত মালিকদের কাছে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি।
১৫ দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও এক্সসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাঁচ দফা দাবির লিফলেট প্রচার, প্রয়োজনে পোস্টার ছাপানো।
এছাড়া বেকার শিক্ষার্থী, যুবক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে দাবিগুলো জনপ্রিয় করা এবং কথিত জব্দকৃত অর্থ কর্মসংস্থান তৈরিতে ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— ব্যাংক কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে কথিত সহযোগীদের শনাক্ত করা এবং তাদের কার্যক্রমের রেকর্ড সংরক্ষণ।
এছাড়া গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে কথিত লুটপাট ও অর্থপাচারের তথ্য প্রকাশ এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও আমানতকারীদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন, সভা ও সেমিনার আয়োজনের কথাও বলা হয়েছে।