বিদায়ের প্রাক্কালে এক মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে চা–বাগানের শ্রমিক মঙ্গল দাসের দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া পরিশোধ করে তার কারামুক্তির ব্যবস্থা করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।রোববার (২১ জুন) জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে মঙ্গল দাসের ২০ হাজার টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়। বিল পরিশোধের পর আদালত পুনরায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরে জামিননামা কারাগারে পাঠানো হলে তিনি মুক্তি পান।
জানা গেছে, বিমানবন্দর এলাকার কেওয়াছড়া চা বাগানের বিরাশ দাসের ছেলে মঙ্গল দাস বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে অক্ষম হওয়ায় গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর থেকে কারাভোগ করছিলেন। কারাগার পরিদর্শনের সময় বিষয়টি জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের নজরে আসে। সে সময় তিনি সহায়তার আশ্বাস দেন।এর ধারাবাহিকতায় গত ১১ মার্চ বিদ্যুৎ আদালতের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আনোয়ারুল কবির মঙ্গল দাসকে জামিন দেন। তবে পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে বকেয়া বিল পরিশোধ হওয়ায় তার মুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিল ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে এবং রিলিজ আদেশও সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, জামিনসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় কিছুটা গ্যাপ তৈরি হওয়ায় বিল পরিশোধে দেরি হয়েছিল। তবে পরে বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে যে পরিমাণ বিল বকেয়া ছিল, তা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে। বিল পরিশোধের পরপরই বিষয়টি সংশোধন করা হয় এবং রিলিজ আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।
বিষয়টি সমাধান হয়েছে এবং জেল কর্তৃপক্ষও তা নিশ্চিত করেছে।পিংকি সাহা জানান, প্রশাসনিক ব্যস্ততা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের কিছু ঘাটতির কারণে বিষয়টি প্রথমে নজর এড়িয়ে গিয়েছিল। তবে পরে তা দ্রুত সমাধান করা হয়।এদিকে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে সিলেটে নানা আলোচনা চলছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তবে প্রজ্ঞাপনে তার প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহে দানের তিনটি ডেগ সিলগালা এবং দানবাক্স ব্যবস্থাপনায় নেওয়া উদ্যোগের পরপরই তাকে প্রত্যাহার করা হয়। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ জনস্বার্থে নেওয়া হলেও তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।অন্যদিকে আরেক পক্ষের মতে, কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগত জটিলতা ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়ার কারণে পরিস্থিতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পক্ষে–বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
/বিএসএস