ই-রিটার্ন পোর্টালে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল এখন খুব সহজ!
২০২৬ সালের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন (e-Return) দাখিল করা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ এবং ইউজার-ফ্রেন্ডলি। এনবিআর (NBR) তাদের সার্ভার আপডেট করায় এখন কয়েক মিনিটের মধ্যেই রিটার্ন দাখিল করে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র বা একনলেজমেন্ট স্লিপ ডাউনলোড করা যায়।
নিচে ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের পূর্ণাঙ্গ ৩৬০-ডিগ্রি গাইড দেওয়া হলো:
প্রতিবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। তবে অনলাইনের মাধ্যমে আপনি বছরের যেকোনো সময় এটি করতে পারেন। ২০২৬ সালে এসে এনবিআর ই-রিটানিং সিস্টেমকে অনেক বেশি অটোমেটেড করেছে, যা সাধারণ করদাতাদের জন্য স্বস্তির কারণ।
আবেদন শুরু করার আগে নিচের বিষয়গুলো নিশ্চিত করুন:
যদি আপনি প্রথমবারের মতো অনলাইন রিটার্ন দিতে চান:
ধাপ ১: লগইন ও রিটার্ন সাবমিশন নির্বাচন আপনার টিন নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। ড্যাশবোর্ড থেকে ‘Return Submission’ মেনুতে ক্লিক করুন।
ধাপ ২: করদাতার তথ্য যাচাই আপনার নাম, ঠিকানা এবং কর সার্কেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসবে। আপনার আয়ের উৎসগুলো (যেমন: বেতন, গৃহ-সম্পত্তি বা ব্যবসা) টিক চিহ্ন দিয়ে নির্বাচন করুন।
ধাপ ৩: আয়ের হিসাব প্রদান আপনার সংগৃহীত ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা স্যালারি সার্টিফিকেট অনুযায়ী আয়ের ঘরগুলো পূরণ করুন। ২০২৬ সালের নতুন ক্যালকুলেটর অনুযায়ী সিস্টেম নিজেই আপনার করযোগ্য আয় হিসেব করে নেবে।
ধাপ ৪: কর রেয়াত ও বিনিয়োগ (Investment Rebate) আপনি যদি সঞ্চয়পত্র কেনেন বা ডিপিএস করেন, তবে তার তথ্য এখানে দিন। এটি আপনার প্রদেয় করের পরিমাণ কমিয়ে দেবে।
ধাপ ৫: সম্পদ ও দায় বিবরণী (Assets & Liabilities) যদি আপনার মোট সম্পদ ৫০ লাখ টাকার বেশি হয় বা আপনি কোনো মোটরকার বা সিটি কর্পোরেশনে ফ্ল্যাটের মালিক হন, তবে আইটি-১০বি (IT-10B) ফর্মটি পূরণ করা বাধ্যতামূলক।
ধাপ ৬: কর পরিশোধ ও দাখিল যদি আপনার কোনো প্রদেয় কর (Payable Tax) থাকে, তবে আপনি বিকাশ, রকেট বা পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে অনলাইনে তাৎক্ষণিক পরিশোধ করতে পারবেন। সবশেষে ‘Submit Return’ বাটনে ক্লিক করুন।
২০২৬ সালের বাজেট অনুযায়ী সাধারণ করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা নিচে দেওয়া হলো:
সময় সাশ্রয়: আয়কর অফিসে যাওয়ার ঝামেলা এবং দালালের দৌরাত্ম্য নেই।
১. সময়সীমা: সাধারণত ৩০ নভেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিন। দেরি হলে প্রতি মাসের জন্য ২% হারে জরিমানা হতে পারে।
২. জিরো রিটার্ন: আপনার আয় যদি করযোগ্য নাও হয়, তবুও টিন সার্টিফিকেট থাকলে ‘জিরো রিটার্ন’ দাখিল করা বাধ্যতামূলক।
৩. হেল্পলাইন: কোনো কারিগরি সমস্যায় এনবিআর-এর কল সেন্টার ০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।