• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম


লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ-ভাঙচুর, বিদ্যুৎ সংকটে অচল দিনাজপুর

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১২ আগস্ট ২০২৬ ৮:৪৯ পিএম

দিনাজপুর জেলাজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির কারণে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। দৈনিক চার থেকে পাঁচবার, এমনকি কোনো কোনো এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু কিছু এলাকায় দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না।

বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম।

নেসকো-২ (বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকা): প্রতিদিনের চাহিদা ২৮ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৮ থেকে ২০ মেগাওয়াট।

নেসকো-১: ২১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সর্বনিম্ন ১৬ দশমিক ৪ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে।

দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ (৫টি উপজেলা): ১২০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মিলছে মাত্র ৮০ থেকে ৯০ মেগাওয়াট।

চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে এই বড় ধরনের পার্থক্যের কারণে বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। দিনাজপুর একটি প্রধান চাল উৎপাদনকারী অঞ্চল হওয়ায় সেখানকার রাইস মিলগুলো বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে। বারবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে মিলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় এর প্রভাব চালের উৎপাদন ও বাজারদরের ওপর পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দিনের পর দিন বিদ্যুতের এই তীব্র সংকট চলতে থাকায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১ আগস্ট রাতে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে আফতাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ এরিয়া অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা।

পরবর্তী সময়ে গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নবাবগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে একদল বিক্ষুব্ধ গ্রাহক পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুর চালান।

বর্তমানে বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণে সরবরাহ বৃদ্ধি এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ জনগণ।

/এএসএফ