• ঢাকা
  • সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫১ পিএম


রোগীর রক্তের গ্রুপ মিলে যাওয়ায় নিজেই রক্ত দিলেন চিকিৎসক

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২ নভেম্বর ২০২৬ ১০:৪৫ পিএম

জরুরি মুহূর্তে রক্তদাতা না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন রোগীর স্বজনেরা। এমন পরিস্থিতিতে মুমূর্ষু রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহিদুল ইসলাম তুহিন।

হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রোগীর জীবন বাঁচাতে নিজেই রক্তদান করেন তিনি। রোগীর রক্তের গ্রুপের সঙ্গে নিজের রক্তের গ্রুপ মিলে যাওয়ায় এ উদ্যোগ নেন চিকিৎসক। এ ঘটনা উল্লেখ করে সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন তিনি। পরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনরা তাঁর মানবিকতার প্রশংসা করেন।

রক্তের অভাবে সংকটাপন্ন ছিলেন রোগী

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩১ অক্টোবর ‘ইনকমপ্লিট অ্যাবরশন’ নিয়ে উজিরপুর উপজেলার বড়াকোঠা ইউনিয়নের বোহরকাঠি গ্রামের মঞ্জু হাওলাদারের স্ত্রী আঞ্জুরা বেগম (৪০) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন।

পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কম পাওয়া যায়। পাশাপাশি চলছিল রক্তক্ষরণ। রোগীর মুমূর্ষু অবস্থা ও শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত রক্ত দেওয়ার পরামর্শ দেন হাসপাতালের চিকিৎসক।

আঞ্জুরা বেগমের দিনমজুর স্বামী মঞ্জু হাওলাদার জানান, তাঁর স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ ‘এ পজিটিভ’। ওই মুহূর্তে বিভিন্ন আত্মীয়স্বজন ও রক্তদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও পরদিন (১ নভেম্বর) সকাল পর্যন্ত কোনো রক্তদাতার সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে রক্তশূন্যতায় ক্রমেই নিস্তেজ হয়ে পড়ছিলেন আঞ্জুরা বেগম।

নিজেই রক্ত দিতে এগিয়ে আসেন চিকিৎসক

রোগীর সংকটের বিষয়টি জানতে পেরে তাঁর জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসেন ডা. মাহিদুল ইসলাম তুহিন। নিজের রক্তের গ্রুপের সঙ্গে রোগীর রক্তের ক্রস-ম্যাচিং করে মিল পাওয়ায় তিনি নিজেই রক্তদান করেন। এরপর থেকে সুস্থ হয়ে উঠতে শুরু করেছেন আঞ্জুরা বেগম।

সোমবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে পুরো ঘটনা তুলে ধরেন চিকিৎসক তুহিন। একই সঙ্গে উজিরপুর উপজেলায় জরুরি রক্তদাতা সংকটের বিষয়টিও সামনে আনেন তিনি।

স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা সংগঠন গড়ার আহ্বান

পোস্টে উজিরপুরে একটি সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবী রক্তদান সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানান ডা. মাহিদুল ইসলাম তুহিন। জরুরি প্রয়োজনে যেন দ্রুত রক্তদাতা খুঁজে পাওয়া যায়, সে জন্য কার্যকর যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

এ বিষয়ে ডা. মাহিদুল ইসলাম তুহিন বলেন, তাঁর রক্তের গ্রুপের সঙ্গে ওই মুমূর্ষু রোগীর রক্তের গ্রুপ ও ক্রস-ম্যাচিং মিলে যাওয়ায় রক্ত দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, উজিরপুরে একটি সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবী রক্তদান সংগঠন গড়ে তোলা এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত রক্তদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের কার্যকর নেটওয়ার্ক তৈরি করতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক সংগঠনগুলোর এগিয়ে আসা উচিত।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা বলেন, এটি নিঃসন্দেহে একটি মানবিক কাজ। চিকিৎসকদের সেবাদানের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

/এএসএফ