• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম


বিদ্যুৎ উৎপাদনে ধস, ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৪ আগস্ট ২০২৬ ৭:৫৮ এএম

সারা দেশে তীব্র জ্বালানি সংকটের প্রভাবে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনে-রাতে মিলিয়ে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের গ্রামাঞ্চলে মধ্যরাতের পর লোডশেডিং সবচেয়ে বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাত ১টায় সারা দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৫১২ মেগাওয়াট। দিনের বেলাতেও ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্রীষ্মপ্রধান আবহাওয়ার কারণে মধ্যরাতেও বিদ্যুতের চাহিদা কমছে না। একই সঙ্গে গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে ফার্নেস অয়েলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, দেশে ২৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে পিক আওয়ারে প্রায় ১৭ হাজার মেগাওয়াট চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এর প্রধান কারণ গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলের ঘাটতি। পাশাপাশি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কয়লাভিত্তিক পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় উৎপাদন আরও কমে গেছে।

বরিশাল থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে যাওয়া রবিউল হাসান জানান, পর্যটন এলাকায় এসেও তিনি দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন। তার ভাষ্য, দিন-রাত মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। পর্যটননগরীর এমন পরিস্থিতি দেখে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় তাপমাত্রা কমছে না এবং বিদ্যুতের চাহিদাও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। রাত ৯টার দিকে পিক আওয়ারে চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াটের বেশি থাকলেও সরবরাহ করা যাচ্ছে প্রায় ১৪ হাজার মেগাওয়াট। এ সময় গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৩ হাজার ৫২৪ মেগাওয়াট, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৫ হাজার ৫২৫ মেগাওয়াট এবং জলবিদ্যুৎ থেকে ১৭৬ মেগাওয়াট উৎপাদন হয়েছে। বাকি বিদ্যুৎ এসেছে ভারত ও নেপাল থেকে আমদানি এবং অন্যান্য উৎস থেকে।

বর্তমানে দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ১৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। তবে গ্যাস ও জ্বালানির সংকটে এর অনেকগুলোই পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। এ অবস্থায় অলস পড়ে থাকা কেন্দ্রগুলোর জন্য সরকার বছরে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণমাত্রায় চালাতে দৈনিক ১২০ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৬৮ কোটি ঘনফুট। ফলে এসব কেন্দ্র থেকে উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াটে। একই সঙ্গে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় জ্বালানি কিনে উৎপাদন চালাতে পারছে না।

পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি না হলে দেশের বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা নেই।

সূত্র: যুগান্তর

/এএসএফ