• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০২:১১ এএম


ভারতের বাধায় আটকে গেল নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৪ জুন ২০২৬ ৮:৩৭ পিএম

নেপাল থেকে বাংলাদেশে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে। সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে ভারত এই অনুমোদন প্রক্রিয়া আটকে দিয়েছে। ফলে পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১৫ জুন থেকে বাংলাদেশ কেবল ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই পাবে।রোববার (১৪ জুন) নেপালের জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (সিইএ) জানিয়েছে, বিদ্যমান সঞ্চালন ব্যবস্থায় অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরিবহনের সক্ষমতা নেই।কর্মকর্তারা আরও জানান, বাড়তি বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য নতুন করে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সংশোধন বা স্বাক্ষরের প্রয়োজন রয়েছে।

পাশাপাশি নেপাল ও ভারতের জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির অনুমোদনও লাগবে।সাধারণত বর্ষা মৌসুমে নেপাল উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ভারত ও বাংলাদেশে রপ্তানি করে থাকে। তবে শীত মৌসুমে দেশটি নিজস্ব চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে।২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির (জেএসসি) বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের পাশাপাশি আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানির বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারেও দুই পক্ষ একমত হয়েছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ) ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেডকে (এনভিভিএন) অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানায়। তবে পরবর্তীতে এনভিভিএন জানায়, ভারত-বাংলাদেশের ১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার সঞ্চালন লাইনে অতিরিক্ত এই বিদ্যুৎ পরিবহনের আর সক্ষমতা অবশিষ্ট নেই।

এনইএর বিদ্যুৎ বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক তর্ক বাহাদুর থাপা বলেন, “এবার বাংলাদেশে কেবল ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই রপ্তানি করা হবে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের জন্য ত্রিপক্ষীয় চুক্তি চূড়ান্ত না হলেও আগের নিয়মে আমরা ভারতের সিইএ’র কাছে এনভিভিএনের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। কিন্তু তারা জানিয়েছে, সঞ্চালন লাইনে নতুন করে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেওয়ার সক্ষমতা নেই।”

ত্রিপক্ষীয় চুক্তির জটিলতাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতির সমাধানে নেপাল ও ভারতের আসন্ন জেএসসি এবং যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠকে নতুন সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে। তবে এসব বৈঠকের সময়সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি।এর আগে ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জেএসসি বৈঠকে নেপাল ভারতের সঞ্চালন অবকাঠামো ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির নীতিগত অনুমোদন পায়।

পরে একই বছরের ৩ অক্টোবর এনইএ, এনভিভিএন এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।ওই চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।নেপাল থেকে প্রথমবারের মতো ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশে ১২ ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছিল। বিদ্যুৎটি নেপালের ঢালকেবার-মুজাফফরপুর ৪০০ কেভি লাইন হয়ে ভারতে প্রবেশ করে এবং পরে বহরমপুর-ভেড়ামারা ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পৌঁছে।বর্তমানে নেপালের ত্রিশূলী ও চিলিম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের জন্য এই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বাণিজ্য ও আয়নেপাল বাংলাদেশের কাছে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৬ দশমিক ৪০ মার্কিন সেন্ট দরে বিক্রি করছে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও একই মূল্য নির্ধারণের পরিকল্পনা ছিল। ভারতের সঙ্গে নেপালের বিদ্যুৎ বাণিজ্য ভারতীয় রুপিতে হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে লেনদেন হচ্ছে মার্কিন ডলারে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ভারত ও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করে নেপাল ২০ হাজার ৯৯৫ কোটি রুপি আয় করেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১৩ হাজার ১০৩ কোটি রুপি।এ পর্যন্ত ভারত ও বাংলাদেশে মোট ১ হাজার ১৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে নেপাল।

/বিএসএস