রাজধানীর ডেমরায় দূর সম্পর্কের শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হওয়া মো. জাহিদ হাসানকে (৪০) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে বুধবার (১০ জুন) দিবাগত রাতে ডগাইর কারিমিয়া মসজিদের পাশের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া জাহিদ হাসান পাবনার ঈশ্বরদী থানার বয়রা সুলতানপুর গ্রামের মৃত আফসার আলীর ছেলে। তিনি ডেমরার ডগাইর এলাকায় ফারুক নামের এক ব্যক্তির বাড়ির দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া ছিলেন।
এদিকে, বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ২৭ বছর বয়সী ভুক্তভোগী নারী ডেমরা থানায় জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়।
ঘটনার বিষয়ে ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা তাইফুর রহমান জানান, দূর সম্পর্কের শ্যালিকা হওয়ায় জাহিদ প্রায়ই ওই নারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখতেন।
ওসি বলেন, গত ৫ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে পারিবারিক একটি প্রয়োজনের কারণে ভুক্তভোগী তার দুলাভাইয়ের বাসার সামনে যান। এ সময় কৌশলে জাহিদ তাকে ডগাইরের নতুনপাড়া বাঁশের ফুল সাতমিনার মসজিদের বিপরীতে সালামবাগ এলাকায় আবুল কালামের বাড়ির নিচতলার ভাড়াটিয়া বিপ্লবের কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নিজের এবং পরিবারের মান-সম্মানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঘটনাটি দীর্ঘদিন গোপন রাখেন এবং বিষয়টি ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, গত ৮ মে রাত ১১টার দিকে জাহিদ পূর্বে ধারণ করা ভিডিওটি ভুক্তভোগীর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান এবং তাকে অন্যত্র দেখা করার জন্য চাপ দেন। একই সঙ্গে ওই ভিডিও ব্যবহার করে তাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করতে থাকেন।
এসব ঘটনার পরই ভুক্তভোগী আইনি সহায়তা নিতে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জাহিদ হাসানকে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
/এসএন